লাইফস্টাইল ডেস্ক: ভোজনরসিক বাঙালির ভূরিভোজের ইতি কি দই ছাড়া সম্ভব? বিয়েবাড়ি হোক বা ঘরোয়া আয়োজন, শেষ পাতে একটু মিষ্টি দই বা ‘কার্ড’ (Curd) না হলে যেন তৃপ্তি আসে না। পুষ্টিবিজ্ঞান মতে, দই হজমশক্তি বাড়ায় এবং এটি অন্ত্রের জন্য উপকারী একটি দারুণ ‘প্রোবায়োটিক’ (Probiotic)। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনে ভরপুর এই খাবারটি শরীরের জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু সাবধান! অমৃতও বিষ হতে পারে যদি তা ভুল খাবারের সাথে বা ভুল সময়ে খাওয়া হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বলছে, সব খাবারের সঙ্গে দই খাওয়া নিরাপদ নয়। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের পর দই খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অজান্তেই শরীরে তৈরি হতে পারে টক্সিন বা বিষক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী পেটের পীড়া ও চর্মরোগের কারণ হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ৩টি খাবারের পর দই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
১. মাছ ও দই: প্রোটিনের সাংঘর্ষিক সমীকরণ
বাঙালির পাতে মাছ থাকবে না, তা কি হয়? কিন্তু মেনুতে যেদিন মাছ থাকছে, সেদিন দই এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিজ্ঞান বলছে, মাছ এবং দই—উভয়েই উচ্চমাত্রার ‘প্রোটিন সোর্স’ (High Protein Source)। কিন্তু এদের উৎস ও গুণাগুণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটি প্রাণীজ আমিষ (Animal Protein) এবং অন্যটি দুগ্ধজাত ফারমেন্টেড প্রোটিন।
এই দুই ধরনের প্রোটিন একসাথে বা পরপর খেলে পাচনতন্ত্র বা ‘ডাইজেসটিভ সিস্টেম’-এর ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। ফলে হজমের সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং পেটে গ্যাস হতে পারে। এছাড়া আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, মাছ ও দইয়ের বিরুদ্ধ ভোজন শরীরে টক্সিন তৈরি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বেতী বা নানা ধরনের চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই ‘ফিশ কারি’ খাওয়ার ঠিক পরেই দই খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. তেলচপচপে ভাজাপোড়া ও পরোটা
অনেকেরই সকালের নাস্তায় গরম পরোটার সঙ্গে একবাটি দই বা রায়তা খাওয়ার অভ্যাস আছে। শুনতে সুস্বাদু মনে হলেও স্বাস্থ্যের জন্য এটি মোটেও সুখকর নয়। পরোটা, লুচি বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার হজম করতে শরীরকে প্রচুর কসরত করতে হয়। এর সঙ্গে দই যুক্ত হলে তা হজম প্রক্রিয়াকে বা ‘মেটাবলিজম’ (Metabolism) রেটকে ধীর করে দেয়।
তৈলাক্ত খাবারের পর দই খেলে শরীরে অলসতা বা লেথার্জি ভাব চলে আসে এবং পেটে ভারী ভাব অনুভূত হয়। দীর্ঘ দিন এই অভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে এবং কোলেস্টেরল লেভেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৩. দুধ ও দই: রাসায়নিক বিক্রিয়ার ঝুঁকি
দুধ থেকেই দই তৈরি হয়, তাই অনেকেই মনে করেন এই দুটি একসাথে খাওয়া নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দুধ হলো ল্যাকটোজ সমৃদ্ধ সাধারণ পানীয়, আর দই হলো দুধের গাজন বা ‘ফারমেন্টেশন’ (Fermentation) প্রক্রিয়ার ফসল।
দুধ এবং দই একসাথে বা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডিটি বা অম্লতার সৃষ্টি হয়। এতে বুক জ্বালাপোড়া (Heartburn), বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার একসাথে গ্রহণ করলে শরীরে হঠাৎ করে ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য দুঃসংবাদ।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
সুস্থ থাকতে দই খাওয়ার সময় বাছ-বিচার করা জরুরি। দই সবসময় সাধারণ তাপমাত্রার খাবারের সাথে বা সবজি দিয়ে খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ভুল ‘ফুড কম্বিনেশন’ এড়িয়ে চললে দইয়ের প্রকৃত পুষ্টিগুণ শরীর গ্রহণ করতে পারবে এবং আপনিও থাকবেন পেটের পীড়ামুক্ত।