• জীবনযাপন
  • হাড়ের ক্ষয় নিয়ে চিন্তিত? ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ‘Power Duo’ দিয়ে শরীরকে রাখুন ইস্পাতের মতো মজবুত

হাড়ের ক্ষয় নিয়ে চিন্তিত? ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ‘Power Duo’ দিয়ে শরীরকে রাখুন ইস্পাতের মতো মজবুত

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
হাড়ের ক্ষয় নিয়ে চিন্তিত? ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ‘Power Duo’ দিয়ে শরীরকে রাখুন ইস্পাতের মতো মজবুত

বয়স বাড়লেও হাড় থাকবে অটুট, অস্টিওপোরোসিস রুখতে এবং ইমিউনিটি বাড়াতে প্রতিদিনের ডায়েটে এই সুপারফুডগুলো রাখা মাস্ট

সুস্থ, সবল ও নীরোগ থাকার জন্য শরীরে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানের ব্যস্ত ‘Lifestyle’ এবং খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মের কারণে আমাদের অনেকের শরীরেই প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এর মধ্যে হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হলো ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম। মানবদেহের হাড়কে মজবুত রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখতে এই দুটি উপাদান একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ক্যালসিয়াম হাড় গঠন করে, আর ভিটামিন ডি সেই ক্যালসিয়ামকে শরীরে শোষণ বা ‘Absorb’ করতে সহায়তা করে। অর্থাৎ, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেয়েও কোনো লাভ হয় না। হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, ‘Immune System’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং এমনকি শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এই ভিটামিনের জুড়ি নেই। বিশেষ করে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া বা ‘Osteoporosis’-এর মতো জটিল সমস্যা প্রতিরোধে সঠিক ডায়েট অত্যন্ত জরুরি।

প্রাকৃতিকভাবে সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস হলেও, আমাদের খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিশেষ খাবার যোগ করে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হাড়কে ইস্পাতের মতো মজবুত রাখতে আপনার পাতে কোন কোন খাবার থাকা বাঞ্ছনীয়।

সামুদ্রিক বা তৈলাক্ত মাছ (Fatty Fish)

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ফ্যাটযুক্ত মাছ বা ‘Fatty Fish’ হলো ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। স্যালমন, ট্রাউট এবং টুনার মতো মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি থাকে। এগুলো কেবল সুস্বাদু এবং পুষ্টিকরই নয়, বরং নিয়মিত এই ধরনের মাছ খাওয়ার অভ্যাস আপনার হাড়ের গঠনকে শক্তিশালী করতে এবং হাড়ের ক্ষয়রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য (Dairy Products)

শৈশব থেকেই হাড়ের যত্মে দুধের গুরুত্বের কথা আমরা শুনে আসছি। দুধ, ঘি, চিজ বা পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারগুলো ক্যালসিয়ামের ভাণ্ডার। নিয়মিত এক গ্লাস দুধ পান করা শরীরের ‘Bone Density’ বা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে অসামান্য সহায়তা করে। যারা হাড়ের সন্ধি বা জয়েন্টের ব্যথায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য দুগ্ধজাত খাবার ডায়েটে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সবুজ শাকসবজি ও উদ্ভিদভিত্তিক উৎস

যাঁরা মাছ বা মাংস এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সবুজ শাকসবজি হতে পারে পুষ্টির ‘Powerhouse’। বিভিন্ন গবেষণায় বা ‘Case Study’-তে দেখা গেছে, গাঢ় সবুজ রঙের শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন থাকে, যা হাড়ের সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সয়া দুধ, টফু বা অন্যান্য সয়া-জাতীয় খাবার ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস। বিশেষ করে যারা ‘Lactose Intolerant’ বা দুধ সহ্য করতে পারেন না, তাঁদের জন্য সয়া পণ্য একটি দুর্দান্ত বিকল্প।

ডিমের কুসুম: উপেক্ষিত সুপারফুড

ডিমকে বলা হয় কমপ্লিট প্রোটিন সোর্স। তবে অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বা কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম এড়িয়ে শুধু সাদা অংশটি খান। কিন্তু আপনি জানেন কি? ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন থাকলেও, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের মতো জরুরি মিনারেলগুলো মূলত ডিমের কুসুমেই থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর হাড়ের স্বাভাবিক ক্ষয় শুরু হয়, এই সময়ে শরীরের খনিজ উপাদানের ঘাটতি মেটাতে এবং হাড় মজবুত রাখতে কুসুমসহ ডিম খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

Tags: health tips superfood healthy diet nutrition guide bone health vitamin d calcium rich foods osteoporosis prevention fatty fish dairy products