গত মৌসুমে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ের সুখস্মৃতি সঙ্গী করে চলতি মৌসুমেও অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (PSG)। সেই আধিপত্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি সোনালী পালক। কাতারের মাটিতে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই আর টাইব্রেকার নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ঘরে তুলল ফরাসি জায়ান্টরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকার পর, পেনাল্টি শ্যুটআউটে রাশিয়ান গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানের জয় পায় লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
কাতারের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতের এই ফাইনালটি ছিল ইউরোপীয় এবং ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলের ধ্রুপদী লড়াই। যদিও ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোকে পরাস্ত করতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে পিএসজিকে, তবুও দিনশেষে প্যারিসের ক্লাবটিই প্রমাণ করেছে কেন তারা বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।
মাঠের লড়াই ও আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন (Ball Possession) এবং আক্রমণের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল পিএসজি। পুরো ম্যাচে ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গে একের পর এক হানা দেয় তারা। এই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় জর্জিয়ান সেনসেশন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়ার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
তবে কোপা লিবের্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান সেরি 'আ' জয়ী ফ্ল্যামেঙ্গো সহজে হাল ছাড়েনি। বিরতির পর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে তারা। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্জিনিয়োর নিখুঁত স্পট কিকে (Spot Kick) সমতায় ফেরে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। এরপর পিএসজি গোল ব্যবধান বাড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও ফ্ল্যামেঙ্গোর জমাট রক্ষণ আর ভাঙা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের ‘এক্সট্রা টাইম’-এও স্কোরলাইন ১-১ থাকলে ম্যাচ গড়ায় ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে।
সাফানভের গ্লাভসে স্বপ্নভঙ্গ ফ্ল্যামেঙ্গোর
ম্যাচের মূল নাটকীয়তা জমে ওঠে পেনাল্টি শ্যুটআউটে। শ্বাসরুদ্ধকর এই পর্বে দুই দলই তাদের প্রথম শটে গোল আদায় করে নেয়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় পিএসজির গোলরক্ষক সাফানভের একক শো। ফ্ল্যামেঙ্গোর তারকা সাউল নিগেসের শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন তিনি।
পিএসজির জন্য শঙ্কার মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল যখন দলের অন্যতম ভরসা উসমান দেম্বেলে বল উড়িয়ে মারেন এবং পরবর্তীতে ব্র্যাডলি বার্কোলার শটও ফ্ল্যামেঙ্গোর গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। তবে সতীর্থদের ব্যর্থতাকে ম্লান করে দেন সাফানভ। ফ্ল্যামেঙ্গোর পেদ্রো, লিও পেরেইরা এবং লুইস আরাউহোর শট একের পর এক ঠেকিয়ে দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন পিএসজির জয়ের নায়ক। বিশেষ করে লুইস আরাউহোর শেষ শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করার সঙ্গে সঙ্গেই শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো প্যারিস শিবির। শ্যুটআউটে ২-১ গোলের এই জয় পিএসজির মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
প্যারিসে শিরোপার উৎসব
এই জয় পিএসজির জন্য কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের এক অনন্য দলিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফরাসি সুপার কাপ দিয়ে শিরোপা যাত্রা শুরু করেছিল তারা। এরপর বছরের মাঝামাঝি সময়ে ফরাসি কাপ, লিগ আঁ (Ligue 1) এবং ক্লাব ইতিহাসের প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ট্রেবল জয়ের কীর্তি গড়েছিল এনরিকের দল। বছরের শেষে এসে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয় তাদের ‘গোল্ডেন ইয়ার’-এর ষোলকলা পূর্ণ করল।