• জীবনযাপন
  • রাতের শিফটে ডিউটি কিংবা ফ্রিল্যান্সিং? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই বিশেষ ‘ডায়েট চার্ট’

রাতের শিফটে ডিউটি কিংবা ফ্রিল্যান্সিং? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই বিশেষ ‘ডায়েট চার্ট’

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
রাতের শিফটে ডিউটি কিংবা ফ্রিল্যান্সিং? সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই বিশেষ ‘ডায়েট চার্ট’

শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির অব্যর্থ কৌশল; জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ।

আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে দিন-রাতের পার্থক্য ঘুচে গেছে অনেক আগেই। গ্লোবাল ক্লায়েন্টদের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আইটি সেক্টরের কর্মী থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সার—সবাইকেই এখন দীর্ঘ সময় রাতের শিফটে (Night Shift) কাজ করতে হয়। তবে মানবদেহ মূলত দিনের আলোতে কাজ করা এবং রাতে বিশ্রামের জন্য বিবর্তিত হয়েছে। ফলে এই অভ অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম (Metabolism) বিঘ্নিত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজন ও হৃদরোগের ওপর। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক পোর্টাল ‘লাইফস্টাইল ডায়েটিশিয়ান’-এর তথ্যমতে, যারা রাত জেগে কাজ করেন, তাদের ক্যালরি ইনটেক (Calorie Intake) এবং খাদ্যের গুণগত মানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। নিচে সুস্থ থাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হলো:

১. এনার্জি বুস্টার হিসেবে বাদামের ব্যবহার

কাজের ফাঁকে যখনই ক্ষুধা অনুভব করবেন, তখন ভাজাপোড়া বা ফাস্ট ফুড এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বাদাম বেছে নিন। আখরোট (Walnut), কাঠবাদাম বা পেস্তা শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি দেয়। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং অপ্রয়োজনীয় ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়।

২. অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেবে ফল ও সবজি

রাতের শিফটে কর্মরত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল ও সবজি রাখা অপরিহার্য। মৌসুমি ফলের জুস বা সালাদ শরীরে ভিটামিনের জোগান দেয়। বিশেষ করে হোল-গ্রেইন ব্রেডের সঙ্গে সবজি ও ডিম সেদ্ধর সালাদ একটি আদর্শ মিড-নাইট মিল হতে পারে। এটি শরীরে প্রয়োজনীয় ফাইবার (Fiber) সরবরাহ করে হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।

৩. প্রোটিন ও ফাইবারের ভারসাম্য

যারা বিকেল থেকে কাজ শুরু করেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন, তাদের উচিত রাত ৮টার মধ্যে ডিনার (Dinner) সেরে নেওয়া। ডিনারে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার যেমন—বাদামি চালের ভাত (Brown Rice), ডাল, মুরগির মাংস বা সবজি রাখা ভালো। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন (Protein) থাকলে তা পেট ভরা রাখে এবং কাজের সময় বারবার ঘুমের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

৪. আরামদায়ক ও পুষ্টিকর স্যুপ

কাজের চাপে ক্লান্ত শরীরে এক বাটি গরম স্যুপ জাদুর মতো কাজ করতে পারে। সবজি বা চিকেন স্যুপ একদিকে যেমন লো-ক্যালরি (Low Calorie) খাবার, তেমনি এটি শরীরের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে। এটি পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে না, ফলে সকালে কাজ শেষে ঘুমানোর সময় অস্বস্তি হয় না।

৫. ক্যাফেইন ও ভাজাপোড়া খাবারে সতর্কতা

রাত জাগার জন্য অনেকেই ঘনঘন কফি বা এনার্জি ড্রিংকস পান করেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন (Caffeine) হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। ক্যাফেইনের পরিবর্তে প্রতি আধঘণ্টা অন্তর জল বা ডাবের জল পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড (Hydrated) রাখা জরুরি। এছাড়া রাত জেগে কাজ করার সময় তেলযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার সমস্যা তীব্র হতে পারে।

পরিশেষে, রাতের শিফটে কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস আপনার উৎপাদনশীলতা (Productivity) বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। শরীরকে আর্দ্র রাখা এবং সঠিক সময়ে সঠিক খাবার গ্রহণই হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র।

Tags: health tips weight loss healthy eating protein rich diet plan wellness guide sleep hygiene night shift freelancer health caffeine intake