কিন্ডু: অবতরণ করার পর সাধারণত যাত্রীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিমান থেকে নেমে টার্মিনালে প্রবেশ করেন। কিন্তু কঙ্গোর কিন্ডু (Kindu) বিমানবন্দরে যা ঘটল, তা আধুনিক বিমান পরিষেবার ইতিহাসে এক বিরল এবং বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। বিমানের সিঁড়ি বা প্যাসেঞ্জার স্টেপ না থাকায় বাধ্য হয়ে বিমানের দরজা থেকে সরাসরি রানওয়েতে লাফিয়ে নামতে দেখা গেছে কয়েক ডজন যাত্রীকে। সম্প্রতি এই নজিরবিহীন ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বিভীষিকাময় সেই মুহূর্ত
ঘটনাটি ঘটেছে কঙ্গোর রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘এয়ার কঙ্গো’-এর একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ (Boeing 737-800) বিমানে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটটি কিনশাসা থেকে কিন্ডু বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর এক চরম সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রানওয়েতে অবতরণ করার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও বিমান থেকে যাত্রীদের নামানোর জন্য কোনো সিঁড়ির ব্যবস্থা করতে পারেনি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল। এদিকে বন্ধ কেবিনের ভেতর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় তীব্র গরমে যাত্রীরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।
নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই অবতরণ
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানের এল-১ (L-1) দরজাটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে একের পর এক যাত্রী নিচে লাফ দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের দরজার সিল মাটি থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ মিটার (১০ থেকে ১৩ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। এত উঁচু থেকে সরাসরি টার্ম্যাকে (Tarmac) লাফ দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে গুরুতর হাড় ভাঙা বা প্রাণনাশের শঙ্কা থাকে। অনেক যাত্রী তাদের ভারী স্যুটকেস ও লাগেজ নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাউন্ড স্টাফদের (Ground Crew) হাতে তুলে দিচ্ছিলেন এবং এরপর নিজেরা বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে পড়ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বিমানকর্মীরাই যাত্রীদের এভাবে নামার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
অব্যবস্থাপনার কাঠগড়ায় ‘এয়ার কঙ্গো’
এই ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী এবং নেটিজেন এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ এবং ‘এভিয়েশন সেফটি’ (Aviation Safety)-এর চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করা নতুন এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘এয়ার কঙ্গো’-এর শুরুতেই এমন বিপর্যয় তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক আকাশপথে সুরক্ষার যে কড়া প্রটোকল রয়েছে, কঙ্গোর এই ঘটনা তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিমানবন্দরের এই অব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে এখনো সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে, যা কঙ্গোর পর্যটন ও বিমান পরিষেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।