• দেশজুড়ে
  • খালের পাড়ে পরিত্যক্ত ৪৫০ বস্তা আলু: মালিকহীন এই পাহাড় ঘিরে ঝালকাঠিতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

খালের পাড়ে পরিত্যক্ত ৪৫০ বস্তা আলু: মালিকহীন এই পাহাড় ঘিরে ঝালকাঠিতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
খালের পাড়ে পরিত্যক্ত ৪৫০ বস্তা আলু: মালিকহীন এই পাহাড় ঘিরে ঝালকাঠিতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

নিশুতি রাতে ট্রলার থেকে নামিয়ে চম্পট দেয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা, চারদিনেও দাবিদার না আসায় চাঞ্চল্য; বিপুল পরিমাণ আলু উদ্ধার করল নলছিটি থানা পুলিশ।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এক বিচিত্র ও রহস্যজনক ঘটনার সাক্ষী হলেন এলাকাবাসী। একটি খালের পাড়ে গত চার দিন ধরে পড়ে আছে পাহাড় সমান ৪৫০ বস্তা আলু। জনহীন জমির ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যের কোনো মালিকের হদিস মেলেনি আজও। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাজারে আলুর সরবরাহ ও Market Price নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিশিরাতের রহস্য ও ট্রলারের গতিবিধি

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গভীর রাতে একটি বড় Trawler বোঝাই করে কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নলছিটির একটি খালের পাড়ে এসে ভিড়েন। সেখানে মগড় ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত মনির তালুকদারের জমিতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আলুর বস্তাগুলো নামানো হয়। রাতের অন্ধকারে কাজ সেরে ট্রলারটি দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।

এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন, হয়তো স্থানীয় কোনো বড় ব্যবসায়ী বা কোনো ‘হিমাগার’ থেকে এই আলুগুলো কেনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু বুধবার রাত গড়িয়ে শনিবার হয়ে গেলেও সেই ৪৫০ বস্তা আলুর মালিকের দেখা মেলেনি। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে অবহেলায় পড়ে থাকা আলুর বস্তাগুলো নিয়ে রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধতে শুরু করে।

পুলিশি তৎপরতা ও উদ্ধার অভিযান

দীর্ঘদিন আলুগুলো পড়ে থাকতে দেখে মগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মিন্টু খানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। মিন্টু খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলুর মালিককে খোঁজার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চারদিনেও কেউ এই সম্পদের মালিকানা দাবি করেনি। বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি নলছিটি থানা পুলিশকে জানাই।”

খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ৪৫০ বস্তা আলু উদ্ধার করে। নলছিটি থানার পরিদর্শক আশরাফ আলী এই Law Enforcement প্রক্রিয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত আলুগুলো বর্তমানে মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

রহস্যের নেপথ্যে কী?

বর্তমান বাজারে আলুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং মূল্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে এভাবে বিপুল পরিমাণ আলু খালের পাড়ে ফেলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা তত্ত্ব উঠে আসছে। স্থানীয়দের মতে, এটি বড় কোনো Syndicate বা ‘অবৈধ মজুদদারি’-র অংশ হতে পারে। পুলিশ বা প্রশাসনের অভিযানের ভয়ে হয়তো অপরাধীরা আলুগুলো এখানে ফেলে পালিয়ে গেছে। আবার কেউবা একে ‘পাচার’ করার ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।

নলছিটি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি Background Investigation শুরু হয়েছে। প্রশাসনকে অবহিত করার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপাতত আলুর পাহাড়টি ইউনিয়ন পরিষদের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে।

Tags: police investigation legal action market price jhalakathi news nalchity potato recovery mystery news abandoned goods local administration food supply