বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’ (Christmas) উদযাপিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নেই। তবে এবারের বড়দিনে ঢাকার কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ নজর কেড়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক (Sarah Cooke)। সম্পূর্ণ ‘বাংলাদেশি স্টাইলে’ বাঙালির প্রাণের ঐতিহ্যে মিশে গিয়ে তিনি এই উৎসব উদযাপন করছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উৎসবের আবহে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি পরিহিত সারাহ কুকের একটি ছবি প্রকাশ করে ব্রিটিশ হাইকমিশন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত প্রশংসিত হচ্ছে।
ঐতিহ্যের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
ব্রিটিশ হাইকমিশনের বার্তায় জানানো হয়েছে, সারাহ কুক এই বছর বড়দিনের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইলের শাড়ি পরে। বিশেষত, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক ‘Intangible Cultural Heritage’ বা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বৈশ্বিক এই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পোশাকটিকে বড়দিনের মতো বিশেষ দিনে বেছে নিয়ে সারাহ কুক মূলত বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্য প্রদর্শন করেছেন।
কূটনৈতিক মহলে বড়দিনের উৎসব
ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সত্যিকারের ‘Bangladeshi Style’-এ বড়দিন পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উৎসবের সকালে তাকে লাল ও সোনালি আভার একটি সুনিপুণ কারুকাজ করা টাঙ্গাইল শাড়িতে বেশ সাবলীল ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। হাই-কমিশনারের এই সাজ কেবল পোশাকের পরিবর্তন নয়, বরং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি প্রতীকী প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুভেচ্ছায় সিক্ত ঢাকা
বড়দিন উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও মিশনগুলো বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, কানাডা, চীন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসগুলোও বাংলাদেশের জনগণকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রভাবশালী কোনো দেশের কূটনীতিক যখন স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন, তখন তা বিশ্বদরবারে সেই পণ্যের ‘Brand Value’ বাড়াতে সাহায্য করে। সারাহ কুকের এই টাঙ্গাইল শাড়ি পরিহিত চিত্রটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের প্রচারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বড়দিনের এই বিশেষ দিনে সারাহ কুকের এমন ভিন্নধর্মী উদযাপন নেটিজেনদের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সংস্কৃতির কোনো সীমানা নেই, আর উৎসবের রঙ যখন ঐতিহ্যের সুতোয় বোনা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে আরও মূর্ত ও সুন্দর।