• জাতীয়
  • শিরোনাম: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা: আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ ফোনালাপ

শিরোনাম: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা: আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ ফোনালাপ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
শিরোনাম: মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা: আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ ফোনালাপ

উপশিরোনাম: ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে ‘ডিপ্লোমেটিক’ সমাধানে জোর; জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ ও ইউএই প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই একান্ত সংলাপে দুই নেতা ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-কে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংহতি ফোনালাপ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশের গভীর সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক উদ্বেগের প্রশংসা করেন এবং সময়োপযোগী এই ফোনালাপের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

প্রবাসী সুরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত কয়েক লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশির কর্মসংস্থান ও তাদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি এবং ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘Strategic Partnership’ আরও সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক সমাধান সালেহ শিবলী জানান, ফোনালাপে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন যে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ (Dialogue) এবং কূটনৈতিক (Diplomatic) পন্থায় সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। আঞ্চলিক সংঘাত যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে অবিলম্বে ‘De-escalation’ বা সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর তারা জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বশান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ইউএই প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রেষারেষি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags: middle east tarique rahman foreign policy regional security international relations middle east crisis bangladesh diplomacy geopolitical news uae president gcc countries