দীর্ঘ দেড় যুগের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৈতৃক ভিটায় ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে তারেক রহমান সপরিবারে ঢাকায় পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে এই উষ্ণ অভিনন্দন জানান জামায়াত আমির।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত আমিরের বার্তা
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে (Verified Facebook Page) একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন। মাত্র পাঁচ শব্দের সেই বার্তায় তিনি লিখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের আগমনে জামায়াত আমিরের এই তাৎক্ষণিক অভিবাদন দুই দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও ভবিষ্যৎ মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে।
লন্ডন থেকে ঢাকা: এক দীর্ঘ যাত্রা
তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর (Heathrow Airport) থেকে উড্ডয়ন করে। দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে ফ্লাইটটি প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার ‘Ground Turnaround’ প্রক্রিয়া শেষে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা।
মাটি ও মমত্বের মেলবন্ধন
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ (VVIP Lounge) থেকে বেরোনোর পর এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা করেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৮ বছর পর স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার ব্যাকুলতায় তিনি নিজের জুতো খুলে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর পা রাখেন। হাঁটু গেড়ে বসে একমুঠো মাটি হাতে তুলে নিয়ে গভীর মমতায় তা অনুভব করেন। এ সময় চারপাশের পরিবেশে এক আবেগপ্রবণ আবহ তৈরি হয়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান গুলশানের বাসভবনে গেলেও তারেক রহমান রওনা হন পূর্বাচলের উদ্দেশ্যে।
জনতার অভিবাদন ও পূর্বাচলে সংবর্ধনা
রাজধানীর পূর্বাচলে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) এলাকায় তারেক রহমানের জন্য বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিমানবন্দর থেকে বাসে করে সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লাখো নেতাকর্মী তাকে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। তারেক রহমানও বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তার বাসটি নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে সেখানে এক গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়।
নির্বাসিত জীবনের ইতি
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় মামলা ও রাজনৈতিক জটিলতায় দেশে ফিরতে না পারলেও আজ সেই দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটল। তার এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।