রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল Karim মাসুদকে সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অর্থ যোগানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুল ইসলাম রাজুকে (৩৭) ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ এই আদেশ দেন।
মিরপুরে ঝটিকা অভিযান ও রিমান্ড মঞ্জুর
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের (DB) ইন্সপেক্টর ও তদন্ত কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের Remand মঞ্জুর করেন।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পলায়নের ‘মাস্টারমাইন্ড’ রাজু?
তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনার পরপরই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রধান আসামি ফয়সালকে সরিয়ে ফেলার মিশনে নামেন রাজু। তিনি নিজের আত্মীয়ের মাধ্যমে পলাতক অপর আসামি ফিলিপের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতেন। ফয়সালসহ অন্য অভিযুক্তদের আত্মগোপনে থাকতে এবং দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য প্রয়োজনীয় Financial Aid ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজু কিছু তথ্য দিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, রাজুকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হাদি হত্যার মূল মোটিভ এবং এই অপরাধের নেপথ্যে থাকা অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসতে পারে।
সেই রক্তঝরা ১২ ডিসেম্বর ও হাদির প্রয়াণ
গত ১২ ডিসেম্বর দেশে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী উত্তেজনা বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর Air Ambulance-এ করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দিন যমের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ১৮ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ সংগঠক। এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় (Murder Case) রূপান্তরিত হয়।
বিচারের অপেক্ষায় ইনকিলাব মঞ্চ ও সাধারণ মানুষ
হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। রাজুর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা রাজুর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ট্রানজেকশন ট্র্যাকিং করে দেখছেন, এই অর্থায়নের নেপথ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধী চক্রের হাত রয়েছে কি না।