মাঠে বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরের ‘পারফরম্যান্সে’ বাজিমাত করল সিলেট টাইটান্স। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) দ্বাদশ আসর শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে নিজেদের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে অনন্য নজির স্থাপন করেছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিলেট টাইটান্স নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইতোমধ্যেই খেলোয়াড়দের চুক্তিকালীন পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ পরিশোধ সম্পন্ন করেছে।
আর্থিক নিশ্চয়তায় এক ধাপ এগিয়ে সিলেট
সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মূল পারিশ্রমিকই নয়, বরং ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে অগ্রিম ১৫ দিনের দৈনিক ভাতাও (Daily Allowance) প্রদান করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “বিসিবি’র নির্দেশনা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আমরা আজ খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ বুঝিয়ে দিয়েছি। একই সঙ্গে দলের লজিস্টিক ও ব্যক্তিগত খরচের জন্য ১৫ দিনের আগাম ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।” বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে আসর শুরুর আগেই এমন আর্থিক নিশ্চয়তা খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির চিত্র ও রংপুরের দাপট
সিলেটের পাশাপাশি বিপিএলের অন্য দলগুলোও ক্রিকেটারদের পাওনা পরিশোধে তৎপরতা দেখিয়েছে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে রংপুর রাইডার্স। তারা নির্ধারিত ২৫ শতাংশের পরিবর্তে চুক্তির ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক আসর শুরুর আগেই পরিশোধ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি জগতে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, “রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসও তাদের নির্ধারিত ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটারদের পেমেন্ট সিকিউরিটি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাতে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।”
মালিকানা সংকটে চট্টগ্রাম রয়্যালস: উল্টো পথে ‘ট্রায়াঙ্গল’
সব দল যখন উৎসবে মাতোয়ারা, তখন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। যথাযথ Sponsorship জোগাড় করতে না পারা এবং ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা ছেড়ে দিয়েছে ‘ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস’। শেষ মুহূর্তে বিসিবি-কে চিঠি দিয়ে তারা নিজেদের অক্ষমতার কথা জানায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিসিবি সরাসরি চট্টগ্রামের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যাতে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ না পড়ে। তবে এই সংকট চট্টগ্রামের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
উদ্বোধনী লড়াইয়ের সূচি
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে পর্দা উঠছে বিপিএলের জমজমাট ১২তম আসরের। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে মালিকানা সংকটে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস।
ক্রিকেট প্রেমীদের দৃষ্টি এখন মিরপুরের ২২ গজে। একদিকে সিলেটে মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা, অন্যদিকে চট্টগ্রামের টিকে থাকার লড়াই—সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল যে বেশ রোমাঞ্চকর হতে চলেছে, তার পূর্বাভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে।