দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশের মাটিতে পা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক উন্মাদনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই তাঁর কাছে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যতিক্রমী আবদার পেশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন। রাজনীতির চিরাচরিত দাবি-দাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে নির্মাতা তাঁর আজীবনের এক লালিত স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন তারেক রহমানের কাছে।
তারেক রহমানের প্রাণিপ্রেম ও দীপনের পর্যবেক্ষণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক পোস্টে দীপঙ্কর দীপন তারেক রহমানের একটি অজানা বা কম আলোচিত গুণাবলির কথা সামনে আনেন। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও যত্নশীল। দীপন লিখেছেন, “আজ তারেক রহমান আসছেন, যিনি প্রাণী ভালোবাসেন। সেটা তাঁর পোষা জেবু বিড়ালকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসছেন; সে কারণে বলছি না। আদনান আজাদ আমাকে বলেছেন তারেক রহমান বিড়াল, কুকুর, সাপসহ প্রতিটা প্রাণীর জীবন রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী।”
তারেক রহমানের এই Animal Welfare বা প্রাণিকল্যাণের প্রতি আগ্রহই দীপনকে আশাবাদী করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে তারেক রহমানই পারেন অবলা প্রাণীদের যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে।
জেলায় জেলায় আধুনিক পশু হাসপাতালের স্বপ্ন
এই প্রেক্ষাপটেই দীপন তাঁর মানবিক স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি চান, বাংলাদেশে অবহেলায় পড়ে থাকা পথকুকুর, ভাসমান বিড়াল ও অন্যান্য পশুপাখির জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা হোক। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন—দেশের প্রতিটি জেলায় পশুপাখিদের জন্য একটি করে Modern & Free Hospital Chain তৈরি করা। যেখানে বিনামূল্যে অসহায় প্রাণীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
দীপন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “তারেক ভাই, যদি নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন, তবে আপনার কাছে আমার এই প্রত্যাশা থাকলো। আরও অনেক কিছু আপনাকে ঠিক করতে হবে, সেই কথা আপনাকে অনেকেই বলবে।” নির্মাতার এই বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি দেশের বৃহত্তর উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের একটি অবহেলিত অংশের অধিকার নিয়েও চিন্তিত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসা ও জনমত
দীপঙ্কর দীপনের এই পোস্টটি মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে এমন এক ভিন্নধর্মী ও মানবিক চাহিদা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, উন্নয়ন মানে শুধু বড় বড় ইমারত নয়, বরং প্রতিটি প্রাণের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “রাজনীতির বাইরে গিয়েও অন্য প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবার মতো মানুষের সংখ্যা সত্যিই কম, দীপনদার এই ভাবনাকে স্যালুট।”
জনসমুদ্রে সিক্ত তারেক রহমান
এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডনের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। রাজধানীর ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেছিলেন লাখো মানুষ। জনতার এই অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তারেক রহমান নিজেও সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর অনুভূতির কথা শেয়ার করেন।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক প্রত্যাশার পাশাপাশি দীপঙ্কর দীপনের মতো সৃজনশীল মানুষের এই মানবিক স্বপ্নগুলো আগামীর বাংলাদেশে কতটা প্রতিফলিত হয়।