বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফের প্রচেষ্টা
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকার আশ্রয়ণ বিওপির (বর্ডার অবজার্ভেশন পোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির টহলরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়ায় বিএসএফের এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে পারেনি।
পুশইনকৃতদের পরিচয়
পুশইনকৃত ভারতীয় নাগরিকরা একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে শেখ জব্বার (৭০), তার চার ছেলে— শেখ হাকিম (৪৫), শেখ ওকিল (৪০), শেখ রাজা (৩০) ও শেখ বান্টি (২৮), এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— শেখ জব্বারের স্ত্রী আলকনি বিবি (৬০), শেখ হোসেনের স্ত্রী গুলশান বিবি (৯০), এবং শাকিলা খাতুন (১১), নাছরিন আক্তার (১২), শেখ তাওহিদ (১১) ও আড়াই বছর বয়সী শেখ রহিতসহ কয়েকজন শিশু।
পতাকা বৈঠক ও প্রতিবাদ
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিএসএফের আহ্বানে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ মহিষকুন্ডি বিওপিতে কর্মরত সুবেদার মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিজিবি দল এবং ১৪৬ বিএসএফ-এর নিউ উদয় কোম্পানি কমান্ডার এসি অনিল কুমারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিএসএফ প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত চাইডোবা মাঠে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পতাকা বৈঠকে বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক পুশইনের এই ঘটনায় জোরালো প্রতিবাদ জানান এবং দ্রুত তাদের ফেরত নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর শূন্য লাইনে অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হলে তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হন। প্রমাণের পর বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিজিবি কমান্ডারের মন্তব্য
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা করা হলে ৪৭ বিজিবির টহলরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়।”