এনসিপি থেকে পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলের একাধিক নেতার মাধ্যমে এনসিপি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর, সন্ধ্যায় তাসনিম জারা নিজেই তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, 'প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা।' তবে 'বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে' তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে এই নির্বাচনে ঢাকা-৯ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দেন।
ভোটারদের সমর্থন ও আইনি বাধ্যবাধকতা
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে তাঁকে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে সংগ্রহ করতে হবে বলে জানান তাসনিম জারা। তিনি উল্লেখ করেন, 'মাত্র এক দিনে এত মানুষের স্বাক্ষর গোছানো প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ছাড়া এটা করতে পারব না।' এই কাজে যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বা বসার জায়গা দিয়ে সাহায্য করতে চান, তাদের একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ফান্ডের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া
দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় দাতারা যারা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জারা। তিনি ডোনেট করা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও জানিয়ে দেন। যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন, তাদের একটি নির্দিষ্ট গুগল ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে। ট্রাঞ্জাকশন আইডি ও ডিটেইলস যাচাইয়ের পর অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শিগগিরই জানানো হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা।
জনগণের প্রতি ভরসা
তিনি বলেন, একটি দলের প্রার্থী হলে স্থানীয় অফিস, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী এবং সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার এসব কিছুই থাকবে না। তিনি তাঁর একমাত্র ভরসা হিসেবে এলাকার জনগণকেই উল্লেখ করেন এবং জনগণের 'স্নেহ ও সমর্থন' পেলে তিনি সেবা করার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।