মাইলফলকের রাত ও চিরতরুণ রোনালদো
ফুটবল ইতিহাসে রেকর্ড আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে সৌদি প্রো লিগের মঞ্চে যখন তিনি মাঠে নামলেন, তখন তার নামের পাশে যুক্ত হলো আরও একটি মহাকাব্যিক অধ্যায়। পেশাদার ফুটবলে ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় এটি ছিল রোনালদোর ১,৩০০তম ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের এই বিরল মাইলফলক স্পর্শ করা মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম খোদাই করলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। আর বিশেষ এই রাতটিকে তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন চিরচেনা ভঙ্গিতে—মাঠ মাতানো পারফরম্যান্স আর দর্শনীয় জোড়া গোল দিয়ে।
প্রথমার্ধেই রোনালদোর রুদ্রমূর্তি
রিয়াদের আল-আওয়াল পার্কে আল ওখুদের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল আল নাসর। ম্যাচের ৩১ মিনিটেই গ্যালারিকে উল্লাসে মাতান সিআরসেভেন। সতীর্থের নিখুঁত এক কর্নারে অসাধারণ টাইমিংয়ে বুলেট গতির হেডে জালে বল জড়ান তিনি। রোনালদোর এই ‘এয়ারিয়াল সুপিরিওরিটি’ আরও একবার মনে করিয়ে দিল কেন তাকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা হেডার স্পেশালিস্ট বলা হয়।
নাটকের তখনও বাকি ছিল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (স্টপেজ টাইম) নিজের দ্বিতীয় এবং দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রোনালদো। ডি-বক্সের ভেতর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, পায়ের আলতো টোকায় প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন তিনি। এটি তার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৯৫৬তম গোল, যা তাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।
জয়ের তালিকায় জোয়াও ফেলিক্স ও হ্যাটট্রিকের আক্ষেপ
বিরতির পর ফিরে এসেও আক্রমণের ধার কমায়নি আল নাসর। এবার স্কোরশিটে নাম তোলেন রোনালদোর জাতীয় দল ও ক্লাব সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স। তার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াদ জায়ান্টরা। ম্যাচের শেষ দিকে রোনালদোর সামনে সুযোগ এসেছিল হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার। একবার জালে বল পাঠিয়েওছিলেন তিনি, কিন্তু ‘অফসাইড’-এর খড়্গে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে হ্যাটট্রিক না হলেও ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লুইস কাস্ত্রোর শিষ্যরা।
পরিসংখ্যানে সিআরসেভেনের একক আধিপত্য
চলতি মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে অবিশ্বাস্য ছন্দে রয়েছেন ৪০ ছুঁইছুঁই এই ফরোয়ার্ড। লিগের ১০ ম্যাচে মাঠে নেমে ইতিমধ্যে ১২টি গোল করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে আল নাসর এখন লিগে অপ্রতিরোধ্য; টানা দশটি ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রেখেছে দলটি।
বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যায় পরিণত করা রোনালদো এই মৌসুমে যেভাবে গোলবন্যা বইয়ে দিচ্ছেন, তাতে ১০০০ গোলের ম্যাজিক ফিগার এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। প্রো লিগের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এখন পর্যন্ত সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন এই পর্তুগিজ সেনসেশন।