অ্যাশেজ সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেলেও ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি ফিরছে না। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের মাঝেই বড় দুঃসংবাদ পেল থ্রি-লায়ন্সরা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির (Hamstring Injury) কারণে সিরিজের পঞ্চম তথা শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন ইংল্যান্ডের উদীয়মান পেসার গুস অ্যাটকিনসন। সিডনিতে আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড (SCG) টেস্টে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বেন স্টোকস বাহিনীকে।
মেলবোর্নের সেই মুহূর্ত ও স্ক্যান রিপোর্ট
মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস চলাকালীন নিজের ব্যক্তিগত পঞ্চম ওভারের শেষ বলটি করার পরই অস্বস্তি অনুভব করেন অ্যাটকিনসন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তার হ্যামস্ট্রিংয়ে হাত দিয়ে মাঠ ছাড়েন এবং ড্রেসিংরুমের টানেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জিতে নিলেও অ্যাটকিনসন আর মাঠে ফিরতে পারেননি। সোমবার সকালে তার পায়ে স্ক্যান (Scan) করানোর পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, চোটের ধরন বেশ গুরুতর এবং অল্প সময়ে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অ্যাটকিনসনকে শেষ টেস্টের স্কোয়াড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো ক্রিকেটারকে দলে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
চলমান অ্যাশেজে অ্যাটকিনসনের পারফরম্যান্স
এই সিরিজে ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে অন্যতম ভরসা ছিলেন অ্যাটকিনসন। পার্থ টেস্টে উইকেটশূন্য থাকলেও লোয়ার অর্ডারে ৩৮ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিলেন তিনি। ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্টে শিকার করেন ৩ উইকেট। এরপর অ্যাডিলেডে তাকে বিশ্রাম দিলেও মেলবোর্নে ফিরে আবারও নিজের ছন্দ দেখান তিনি। চোট পাওয়ার আগে নাইটওয়াচম্যান (Nightwatchman) স্কট বোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তিনিই তুলে নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এই সিরিজে তিনি ৬টি উইকেট শিকার করেন।
ইংলিশ পেস ইউনিটে চোটের মড়ক
অ্যাটকিনসন ছিটকে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের পেস বিভাগ এখন বড় সংকটের মুখে। তিনি তৃতীয় পেসার হিসেবে এই সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন। সিরিজের প্রথম টেস্টের পরই বাঁ হাঁটুর চোটে দেশে ফিরে যেতে হয় গতিদানব মার্ক উডকে। তিনি বর্তমানে ইসিবির মেডিকেল টিমের অধীনে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন (Rehabilitation) প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তার বদলি হিসেবে ম্যাথু ফিশারকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে।
এরপর তৃতীয় টেস্ট শেষ হতেই ইনজুরির তালিকায় নাম লেখান জফরা আর্চার। প্রথম তিন ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করা এই তারকার অভাব সিডনি টেস্টে ভালোভাবেই টের পাবে ইংল্যান্ড। আর্চার বল হাতে যেমন ভয়ঙ্কর ছিলেন, তেমনি ব্যাট হাতে অ্যাডিলেডে হাফ-সেঞ্চুরি করে দলের সংগ্রহ বড় করতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
সিডনিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে যখন শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ প্রয়োজন, তখন গুরুত্বপূর্ণ তিন পেসারকে হারানো ইংল্যান্ডের জন্য হবে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, অনভিজ্ঞ পেস ইউনিট নিয়ে সিডনির স্পিন-সহায়ক উইকেটে অজি ব্যাটারদের কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে ইংলিশরা।