ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের অনুভূতি চরমে পৌঁছেছে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় সকালেও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তাপমাত্রার চিত্র ও শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (রবিবার) হাওর-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৩, কুমিল্লা ও যশোরে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের কিছু অংশে হালকা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
আসছে আরও তীব্র শীতের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ১-২ ডিগ্রি কমতে পারে, ফলে ভোর ও সকালের দিকে কুয়াশা আরও ঘন হবে এবং শীতের অনুভূতি বাড়বে। ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত দেয় এবং দরিদ্র ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সতর্কতা
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্তও স্থায়ী হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় উড়োজাহাজ, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ ঘন কুয়াশায় হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাড়কাঁপানো শীতে ছিন্নমূল মানুষ ও শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের ধরন বদলাচ্ছে। কখনো স্বল্প সময়ের তীব্র ঠান্ডা, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই কারণে শীতকালীন প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন এখনই জরুরি এবং বছরের শেষভাগ তীব্র শীতের মধ্য দিয়েই কাটবে।