• দেশজুড়ে
  • ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা জঘন্যতম কাজ: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা জঘন্যতম কাজ: ধর্ম উপদেষ্টা

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই মব জাস্টিস গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ধর্ম অবমাননার অজুহাতে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা জঘন্যতম কাজ: ধর্ম উপদেষ্টা

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে 'জঘন্যতম কাজ' হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'কিলিং আউটসাইড দ্য জুডিশিয়ারি—ইট ইজ নট এক্সেপ্টেবল টু আস। ইন এনি সারকামস্ট্যান্স উই কান্ট অ্যালাউ মব জাস্টিস।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অগ্রহণযোগ্য

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের জেলা কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “দিপু হত্যার ঘটনায় আমরা প্রথম দিন থেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা কোনো দিন চাই না, এই কিলিং আউটসাইড দ্য জুডিশিয়ারি—ইট ইজ নট এক্সেপ্টেবল টু আস। ইন এনি সারকামস্ট্যান্স উই কান্ট অ্যালাউ মব জাস্টিস। তাহলে তো দেশ থাকবে না, সরকার থাকবে না, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থাকবে না; আইন যদি আমি করি, বিচার যদি আমি করি।”

'মব জাস্টিস' মেনে নেওয়া হবে না

ধর্ম অবমাননার অজুহাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ যদি ধর্ম অবমাননা করে থাকে—করতে পারে, ফেসবুক ওপেন প্ল্যাটফর্ম। যদি করে তার জন্য আমাদের তো নির্ধারিত আইন আছে। সরকার আছে, আইন আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, বিচারক আছে, তার বিচার হবে যদি সে করে থাকে। কিন্তু এটার একটা অজুহাত তুলে কোনো মানুষকে পিটিয়ে মারা এবং তাকে পুড়িয়ে ফেলা, এটা জঘন্যতম কাজ। এটার নিন্দা জানাই। যত বড় অপরাধীই হোক, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

রাজবাড়ীর ঘটনায় সাম্প্রদায়িক যোগসূত্র নেই

এছাড়াও তিনি রাজবাড়ীর পাংশার একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এর সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো যোগসূত্র নেই। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিহত অমিত চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগে পরিচিত ছিলেন এবং ডাকাতির সময় গুলি ছোড়ার কারণে স্থানীয়রা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ড. খালিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, “আমরা পিটিয়ে মারার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে চাই। যত বড় অপরাধী হোক, আমাদের তো আইন আছে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সে ডাকাত হলেও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকলে, এভাবে হলে তো আপনাকে পিটিয়ে মারবে, আরেকজনকে পিটিয়ে মারবে, আরেকজনের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেবে। এ যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া অথবা পিটিয়ে মারা, আমরা এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, “ইলেকশন মাস্ট বি হেল্ড ফেয়ার, ফ্রি, ইমপারশিয়াল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ হবে। এটাই আমরা সব রিটার্নিং অফিসারদের, ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি যারা আছেন তাদের আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।”

Tags: murder law and order valuka dipu chandra das mob justice religious-affairs af-m-khalid-hossain bangladesh-elections