ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক বৈশ্বিক মহোৎসব, যেখানে আবেগ আর উন্মাদনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তবে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের যে ‘Craze’ বা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসের গত ১০০ বছরের সব রেকর্ডকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য আবেদনের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তাকে স্রেফ ‘নজিরবিহীন’ বললেও হয়তো কম বলা হবে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টিকিটের জন্য জমা পড়েছে আকাশচুম্বী ১৫ কোটি আবেদন।
ইনফান্তিনোর বিস্ময়: ‘৩০০ বছরের রসদ’
সোমবার দুবাইয়ে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস সামিট’ (World Sports Summit)-এ অংশ নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আসন্ন মেগা ইভেন্টের জন্য ফিফার পরিকল্পনা রয়েছে মোট ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন (৬০ থেকে ৭০ লাখ) টিকিট বিক্রির। কিন্তু আবেদনের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, প্রথম ১৫ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি মানুষ টিকিটের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিড় করেছেন।
পরিসংখ্যানের গভীরতা বোঝাতে ইনফান্তিনো বলেন, “বিশ্বকাপের প্রায় ১০০ বছরের দীর্ঘ পথচলায় ফিফা সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৪ কোটি ৪০ লাখ টিকিট বিক্রি করেছে। অথচ এবার মাত্র ১৫ দিনেই যে পরিমাণ আবেদন এসেছে, তা দিয়ে আগামী ৩০০ বছরের বিশ্বকাপ অনায়াসেই আয়োজন করা সম্ভব।”
সবার জন্য ফুটবল: ৬০ ডলারের বিশেষ ক্যাটাগরি
বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে প্রায়শই সমালোচনা হয়। তবে ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে, ফুটবলকে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ফিফা এবার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। স্বল্প আয়ের দেশগুলোর সাধারণ সমর্থকরা যাতে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে পারেন, সেজন্য ৬০ ডলারের একটি বিশেষ ‘Ticket Category’ চালু করা হয়েছে। ফিফার এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের প্রতি এক বড় ধরণের সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চাহিদার শীর্ষে কোন দেশগুলো?
ফিফার সংগৃহীত ‘Data’ অনুযায়ী, টিকিটের জন্য সবথেকে বেশি আবেদন এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) থেকে। সকার সংস্কৃতির জোয়ারে ভাসতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পরই তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছে জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য (UK)। এই তিন দেশ থেকে আসা আবেদনের পরিমাণ প্রমাণ করে যে, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।
রাজস্ব ও ফুটবলের উন্নয়ন: ফিফার গ্লোবাল মিশন
বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্ত বিশাল পরিমাণ রাজস্ব (Revenue) কোথায় ব্যয় করা হয়, সে সম্পর্কেও আলোকপাত করেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ থেকে যে অর্থ সংগৃহীত হয়, তার প্রতিটি পয়সা আবার বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নের জন্যই বিনিয়োগ করা হয়। ফিফা যদি এই ‘Financial Support’ না দিত, তবে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে আজ ফুটবলের অস্তিত্বই থাকত না।” তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল এবং ‘Infrastructure’ উন্নয়নে এই টিকিট বিক্রির লভ্যাংশ সরাসরি ব্যয় করা হয় বলে তিনি জানান।
ফুটবল দুনিয়ার এই অভূতপূর্ব উন্মাদনা আগামী বিশ্বকাপের আসরকে যে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তা এখন অনস্বীকার্য। সাধারণ ভক্তদের একটাই প্রশ্ন—১৫ কোটি আবেদনের এই পাহাড় ডিঙিয়ে শেষ পর্যন্ত গ্যালারির সোনার হরিণ কার ভাগ্যে মিলবে?