• জাতীয়
  • কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক: তারেক রহমানকে মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করলেন জয়শঙ্কর

কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক: তারেক রহমানকে মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করলেন জয়শঙ্কর

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
কূটনৈতিক অঙ্গনে বড় চমক: তারেক রহমানকে মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তর করলেন জয়শঙ্কর

বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দিতে বিশেষ বিমানে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; শোকের আবহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতার সাক্ষী হলো ঢাকা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বিশেষ ব্যক্তিগত চিঠি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বছরের শেষ দিনে এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও চিঠির আদান-প্রদান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঢাকায় জয়শঙ্করের ঝটিকা সফর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি 'স্পেশাল ফ্লাইট'-এ (Special Flight) চড়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। মূলত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করতেই এই সফর। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মোদির বার্তা

ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই ড. এস জয়শঙ্কর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এই বৈঠকেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো ব্যক্তিগত চিঠিটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপনের পাশাপাশি এটি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ' (Strategic Dialogue)-এর সূচনা হতে পারে। বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে মোদির এই উদ্যোগকে একটি বলিষ্ঠ 'ডিপ্লোমেটিক জেসচার' (Diplomatic Gesture) হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেগম জিয়ার মহাপ্রয়াণ ও রাজনৈতিক শূন্যতা

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা এই নেত্রী কেবল বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, বরং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে শোক দিবস পালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে শোকবার্তা আসছে।

নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এবং তারেক রহমানের হাতে নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হস্তান্তরের বিষয়টি নিছক শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারতের এই 'এনগেজমেন্ট' (Engagement) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভারত একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক জানাতে ভারতের এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে ভারত কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। জয়শঙ্করের এই সফর দুই দেশের মধ্যকার 'কূটনৈতিক আস্থার' (Diplomatic Trust) পারদ আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল।

Tags: tarique rahman khaleda zia india bangladesh foreign policy narendra modi bnp news diplomatic visit s jaishankar