আইনের মূল লক্ষ্য ও পরিবর্তনসমূহ
নতুন সংশোধনী আইনে তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট ও অন্যান্য ইমার্জিং তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করা প্রধান লক্ষ্য।
উদীয়মান তামাকজাত দ্রব্যের অন্তর্ভুক্তি
তামাকজাতদ্রব্যের সংজ্ঞায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোবাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যেকোনো পণ্যকে তামাকজাতদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা পাবে। এছাড়াও, 'নিকোটিন' ও 'নিকোটিনদ্রব্য'-এর পৃথক সংজ্ঞা সংযোজনসহ 'পাবলিক প্লেস'-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।
পাবলিক প্লেসে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা
সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে শুধু ধূমপানই নয়, তামাকজাতদ্রব্যের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে জরিমানার পরিমাণ ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিক্রয়স্থলে প্যাকেটের প্রদর্শন ও প্রচারণাও নিষিদ্ধ। সিএসআর কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম ও লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বিক্রি বন্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ই-সিগারেট ও উদীয়মান পণ্যের উপর কঠোর শাস্তি
ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্য (ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টস) উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রয় ও ব্যবহার এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই বিধান লংঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিড়ি সংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল
কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ি উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের পৃথক বিড়ি উৎপাদন অধ্যাদেশটিও বাতিল করা হয়েছে।
প্যাকেজিং ও শাস্তি জোরদার
তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করা যাবে না। নতুন অধ্যাদেশে শাস্তি ও প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।