লুকাশেঙ্কোর দাবি ও সতর্কবার্তা
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো দাবি করেছেন যে, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেন। নভগোরোদ অঞ্চলে পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ২০২৩ সালে ব্রিকস সম্মেলনের আগে পুতিনের সঙ্গে তাঁর একটি ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছিল।
পশ্চিমা সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য
লুকাশেঙ্কো জানান, বেলারুশের গোয়েন্দারা পশ্চিমা সূত্র থেকে 'আলাপচারিতা ও গুজবের পর্যায়ে' এমন ইঙ্গিত পেয়েছিলেন যে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন বিদেশ সফরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।
পুতিনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
লুকাশেঙ্কোর সতর্কবার্তার জবাবে শুরুতে পুতিন বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তিনি তখন বলেছিলেন যে, তাঁর প্রতিপক্ষরা 'এতটা উন্মাদ বা চরমপন্থি নয়'। তবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় লুকাশেঙ্কোর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে সেই ঝুঁকি বাস্তব ছিল।
সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, গত ২৮–২৯ ডিসেম্বর রাতে পুতিনের বাসভবন লক্ষ্য করে মোট ৯১টি দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যদিও ইউক্রেন এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ড্রোনগুলোর গতিপথের মানচিত্র ও ধ্বংসাবশেষের ভিডিও প্রকাশ করেছে এবং দাবি করেছে যে, হামলাটি ছিল 'নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক' এবং 'নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ'।
পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লুকাশেঙ্কোর অভিমত
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে লুকাশেঙ্কো বলেন, “পশ্চিমে সবাই বোঝে—পুতিনকে সরিয়ে দিলে সবকিছু বদলে যাবে। বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। আজ প্রথমবার আমি এ কথা বলছি, কারণ অসতর্ক হওয়া ঠিক নয়।”