বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর চেয়ে তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ সোয়া ৫ গুণ বেশি সম্পদের মালিক বলে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য উঠে এসেছে। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রুমানা মাহমুদ তাঁর দাখিলকৃত হলফনামায় এই সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন।
অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত হিসাব
হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর স্ত্রী রুমানা মাহমুদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ হলো ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা।
টুকুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে— নগদ অর্থ ২ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ৩২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, মোটরযান ১০ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া, তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন ২ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, রুমানা মাহমুদের অস্থাবর সম্পদের বিশদ বিবরণ হলো— নগদ অর্থ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৫২ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র ও স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫১ টাকা, মোটরযান ৬৫ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ৯৫ হাজার টাকা। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদ ও বার্ষিক আয়
অস্থাবর সম্পদের মতো স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রেও রুমানা মাহমুদ স্বামীর চেয়ে এগিয়ে। টুকুর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ২ লাখ ২৫ হাজার ৩০৭ টাকা। সেখানে তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মোট আয় ৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় ৩ লাখ টাকা এবং শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
ঋণ ও আর্থিক দায়
হলফনামা অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কোনো ঋণের দায়ে নেই, অর্থাৎ তিনি ঋণমুক্ত। তবে তাঁর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ স্বামীর কাছ থেকেই ২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন।