• দেশজুড়ে
  • এনইআইআর চালুর জেরে বিটিআরসি ভবনে তাণ্ডব: ২ কোটির ক্ষয়ক্ষতি, আসামি ৫০০ ছাড়িয়ে

এনইআইআর চালুর জেরে বিটিআরসি ভবনে তাণ্ডব: ২ কোটির ক্ষয়ক্ষতি, আসামি ৫০০ ছাড়িয়ে

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
এনইআইআর চালুর জেরে বিটিআরসি ভবনে তাণ্ডব: ২ কোটির ক্ষয়ক্ষতি, আসামি ৫০০ ছাড়িয়ে

অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের একাংশের পরিকল্পিত হামলা; শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা, পুলিশের জালে ৪৫ জন।

নতুন বছরের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের প্রশাসনিক এলাকা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) সিস্টেম চালুর প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনায় বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবারের সেই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

সংঘাতের নেপথ্যে: এনইআইআর এবং গ্রে-মার্কেট আতঙ্ক

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গত ১ জানুয়ারি থেকে বিটিআরসি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর করার ঘোষণা দেয়। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ ও আন-অফিশিয়াল হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে দেশের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এতে করে হ্যান্ডসেট চুরির হার কমার পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হওয়ার কথা। তবে মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠী এই সিস্টেম চালুর ঘোর বিরোধী ছিল। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পরও যখন সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, তখনই সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে রাজপথে।

তাণ্ডবের খতিয়ান: ২ কোটির সম্পদ বিনাশ

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি বিকেলে এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আগারগাঁও এলাকায় বিটিআরসি ভবনের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিক্ষোভটি মুহূর্তেই সহিংস রূপ নেয়। আক্রমণকারীরা বিটিআরসি ভবনের সামনের কাচের দেয়াল লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। ভবনের সামনে পার্ক করা বিটিআরসির একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) স্টাফ বাসও ভাঙচুর করা হয়।

প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ টাকা। বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, এটি কোনো তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ছিল না, বরং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোতে আঘাত হানার এক পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

আইনি পদক্ষেপ ও সাঁড়াশি অভিযান

মামলার এজাহারে ৫৫ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৪৫ জনকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা আরও ১০ জন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করেছে।

শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রযুক্তি বনাম প্রতিরোধ: কেন এই অস্থিরতা?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেটের ‘গ্রে-মার্কেট’ (Grey Market) পুরোপুরি ধসে পড়বে। এর ফলে হ্যান্ডসেট আমদানিকারক এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে এই প্রযুক্তির বিরোধিতা করছে। তবে বিটিআরসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ‘Job Creation’ নিশ্চিত করতে স্থানীয় মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নতুন বছরের এই সংঘাতময় শুরু ডিজিটাল বাংলাদেশ ও আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাপনার পথে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতে, কোনো ধরনের নাশকতা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে কমিশনকে পিছু হঠানো সম্ভব নয়।

Tags: police action dhaka news network security btrc case neir system mobile market agargaon violence illegal handsets digital infrastructure business protest