ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ট্রাকের চালক ও তার সহকারী (হেলপার)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ সংলগ্ন বড়দাহ পুরাতন ব্রীজে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ডালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রীজের সুরক্ষা রেলিং ভেঙে সরাসরি কুমার নদে তলিয়ে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, যশোর থেকে মসুর ডাল বোঝাই করে ট্রাকটি পাবনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে ট্রাকটি যখন বড়দাহ পুরাতন ব্রীজ অতিক্রম করছিল, তখন চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ট্রাকটি প্রচণ্ড গতিতে ব্রীজের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে গভীর নদে পড়ে নিখোঁজ হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের দুটি বিশেষ ‘Emergency Unit’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, "নদীর গভীরতা এবং তীব্র শীতের কারণে উদ্ধার কাজ শুরুতে কিছুটা ব্যাহত হলেও আমাদের কর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়েছেন।" দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ভোররাতে হেলপার মুবারক হোসেনের এবং সকাল ৮টার দিকে চালক সোহেল শেখের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন ডুবুরিরা।
নিহতদের পরিচয়
নিহত দুই জনই পাবনা জেলার বাসিন্দা। চালক সোহেল শেখ (২৭) পাবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে। একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে মুবারক হোসেন (২০) ছিলেন ওই ট্রাকের হেলপার। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এই ‘Fatal Accident’ তাদের জীবনের ইতি টেনে দিল।
জরাজীর্ণ ব্রীজ ও হাইওয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা
বড়দাহ পুরাতন ব্রীজটি দীর্ঘকাল ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্রীজটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাতে দৃশ্যমানতা কম থাকা এবং ব্রীজের ভঙ্গুর কাঠামোর কারণেই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কগুলোতে ‘Highway Safety’ এবং ‘Infrastructure Maintenance’-এর প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক (DC) আব্দুল্লাহ আল মাসউদ সকালেই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ধার কাজের তদারকি করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক ও পণ্য উদ্ধারেও কাজ চলছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মহাসড়কে রাতে ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ।