• দেশজুড়ে
  • দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা: কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত, পরে বাতিল

দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা: কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত, পরে বাতিল

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দ্বৈত নাগরিকত্বের জটিলতা: কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রথমে স্থগিত, পরে বাতিল

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উত্তেজনা, জামায়াত নেতা-কর্মীদের হট্টগোল, প্রার্থী উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Slug URL: jamaat-candidate-nomination-cancelled

নিউজ ডেস্ক:

আসন্ন নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র অবশেষে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্রের জটিলতার কারণে প্রথমে তার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছিল। এই বাতিল ঘোষণার পর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে এই ঘটনা ঘটে।

স্থগিতাদেশ থেকে বাতিল

গত ২ জানুয়ারি মাহাবুবুল আলম সালেহীর দাখিলকৃত দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। তাকে ৪ জানুয়ারি দুপুর ২টার মধ্যে বৈধ ও ত্রুটিমুক্ত কাগজপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থী তার দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ কনফারেন্স কক্ষে বসে মাহাবুবুল আলম সালেহীর দাখিল করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তিনি জামায়াত প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের (Dual Citizenship) ইস্যুটি 'ত্রুটিপূর্ণ' (Defective) হিসেবে চিহ্নিত করে মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেন।

বাতিল ঘোষণার পর উত্তেজনা

মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা শোনার পর জামায়াত প্রার্থী ও দলের নেতারা বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা আলোচনা এড়িয়ে যান এবং আপিলের পরামর্শ দিয়ে দ্রুত আসন ছেড়ে নিজ অফিস কক্ষে চলে যান।

এ সময় হল রুমের ভেতরে এবং অফিসের বাইরে অপেক্ষমাণ জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ (Additional Police Force) মোতায়েন করা হয়, যার ফলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রার্থীর বক্তব্য

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, "নির্বাচনি নীতিমালা ও আইনের মধ্যে থেকেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্ব কিংবা প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি জানান, সংক্ষুব্ধ পক্ষ অবশ্যই আইন অনুযায়ী আপিল (Appeal) করতে পারবেন।

অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুল আলম সালেহী রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। সালেহী বলেন, "আমাদের কোনো কথা শোনেননি এবং আমার কোনো কাগজপত্র দেখতেও চাননি।" তিনি অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

Search Tags:

Tags: appeal bangladesh politics jamaat islami kurigram returning officer nomination cancelled dual citizenship election law