• দেশজুড়ে
  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া: চট্টগ্রাম মহানগরের ৭টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা, ঝুঁকিতে ১৫ হাজার মানুষ

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া: চট্টগ্রাম মহানগরের ৭টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা, ঝুঁকিতে ১৫ হাজার মানুষ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া: চট্টগ্রাম মহানগরের ৭টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা, ঝুঁকিতে ১৫ হাজার মানুষ

বর্ষার বাইরেও এডিস মশার বিস্তার; জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা

সাধারণত বর্ষাকালকে মশাবাহিত রোগের মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও বাস্তবতা এখন ভিন্ন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকার ৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হটস্পট এলাকা ও সংক্রমণের চিত্র ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি এলাকা হলো কোতোয়ালি, বাকলিয়া, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, চকবাজার, হালিশহর ও পাঁচলাইশ। এসব এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু মহানগর নয়, সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী ও আনোয়ারা উপজেলাতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার ৮৮৭ জন এবং মারা গেছেন ৩১ জন।

সারা বছরব্যাপী রোগের বিস্তার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালের তথ্য মতে, তীব্র শীতকালেও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার রোগীর সংখ্যা কমছে না। জানুয়ারিতেও বিভিন্ন এলাকায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর-এর তথ্যমতে, যে সময়ে সংক্রমণ কমে যাওয়ার কথা, সেই সময়েই চলতি বছর তা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় উষ্ণ আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং নগর এলাকায় পানি জমে থাকার প্রবণতাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এডিস মশার প্রজননকাল দীর্ঘ হওয়ায় ডেঙ্গু কার্যত সারা বছরের রোগে পরিণত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের অভিযোগ মশা নিয়ন্ত্রণে চসিক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৯ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বরাদ্দের বড় অংশই কীটনাশক কেনা ও ফগিং ইউনিটে ব্যয় হলেও মশার বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং চসিক ও সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (MSF) ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করবে।

গবেষণায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালের যৌথ গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, চিকুনগুনিয়া এখন আর স্বল্পমেয়াদি জ্বরে সীমাবদ্ধ নেই। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র অস্থিসন্ধির ব্যথা তিন মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছে, যা কর্মক্ষমতা হ্রাস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। গবেষকরা বলছেন, ভুল রোগ নির্ণয় ও দুর্বল রিপোর্টিং ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত রোগভার অনেকাংশেই অজানা থেকে যাচ্ছে। রিসার্চ প্রজেক্টের টিম লিডার অধ্যাপক ডা. আদনান মান্নান উল্লেখ করেন, ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নতুন মিউটেশন শনাক্ত করেছেন, যা রোগের বিস্তার ও তীব্রতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষকরা শুধুমাত্র ডেঙ্গুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশলের পরিবর্তে সমন্বিত রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রমের ওপর জোর দিয়েছেন।

Tags: bnp bangladesh politics election nomination sirajganj-3 khandakar selim jahangir