ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের ঘড়িতে তখন শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা মাত্র ৫ মিনিট। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হলেন বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। তাঁর নাটকীয় গোলে জয়বঞ্চিত হতে হলো পেপ গার্দিওলার দলকে। ১-১ গোলের এই ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ও এনজোর উদ্যাপন
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ম্যানসিটি। খেলার অন্তিম লগ্নে সিটির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দুবারের চেষ্টায় বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ। তাঁর একটি শট প্রতিহত হলেও দ্বিতীয় দফায় ‘Tap-in’-এ সমতা ফেরান এই মিডফিল্ডার। গোল করার পরপরই এনজো গ্যালারিতে সমর্থকদের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে যেভাবে উদ্যাপন করেন, তাতে পরিষ্কার ছিল চেলসির কাছে এই এক পয়েন্ট জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
শিরোপার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ল সিটি
লিগ টেবিলের বর্তমান সমীকরণে এই ৩ পয়েন্ট সিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পূর্ণ পয়েন্ট পেলে ‘League Leader’ আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনার সুযোগ থাকত তাদের সামনে। বর্তমানে আর্সেনাল ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। চেলসির সঙ্গে ড্র করার ফলে ম্যানসিটির সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪২ পয়েন্ট। অন্যদিকে, ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৫ নম্বরে উঠে এসেছে ব্লুজরা। শিরোপা জয়ের লড়াই বা ‘Title Race’-এ এই পয়েন্ট হারানো সিটির জন্য বড় মাশুল হতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
ম্যাকফারল্যানেরুণুণ জয়জয়কার ও চেলসির পুনরুত্থান
কদিন আগেই কোচ এনজো মারেস্কাকে ছাঁটাই করেছে চেলসি কর্তৃপক্ষ। ফলে সিটির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়াতে হয়েছিল অনূর্ধ্ব-২১ দলের ‘Interim Coach’ ক্যালুম ম্যাকফারল্যানকে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচের অধীনে চেলসির তরুণ ফুটবলাররা যেভাবে লড়াই করেছে, তাতে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচ শেষে ম্যাকফারল্যান বলেন, “আমি আমার খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে গর্বিত। বিশেষ করে দ্বিতীয় অর্ধে তরুণরা যেভাবে ফিরে এসেছে, তা ছিল অনবদ্য। আমাদের ন্যূনতম এক পয়েন্ট প্রাপ্য ছিল এবং ভাগ্য সহায় থাকলে আমরা ম্যাচটি জিততেও পারতাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সামনে কিছু ‘Big Moments’ তৈরি হয়েছিল।”
গার্দিওলার আক্ষেপ ও সিটির আধিপত্য
ম্যাচে আধিপত্যের দিক থেকে সিটি যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। প্রথমার্ধে টিজানি রেইন্ডার্সের গোলে লিড নেওয়ার পর মনে হচ্ছিল সিটি অনায়াসেই জয় তুলে নেবে। কিন্তু গোলের সুযোগ নষ্ট করা এবং দ্বিতীয়ার্ধে মনোযোগ হারানোই কাল হলো তাদের জন্য।
ম্যানসিটি বস পেপ গার্দিওলা বলেন, “প্রথমার্ধে আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলা খেলেছি এবং আধিপত্য বজায় রেখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি দারুণভাবে কামব্যাক করেছে। আমরা কয়েকবার বল পজিশন হারিয়েছি এবং শেষ দিকে কিছু ‘Clinical Finishes’-এর অভাব বোধ করেছি। প্রতিপক্ষ দলে কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকায় তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে।”
এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের লড়াই আরও জমজমাট হয়ে উঠল। আর্সেনালকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে গার্দিওলার দলকে এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।