২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় সরস্বতী পূজা, পবিত্র আশুরা, জন্মাষ্টমী ও মহালয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি দূর করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হয়েছে।
গুজব বনাম বাস্তবতা: কী বলছে সরকার?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি দাবি করা হয় যে, ২০২৬ সালে বেশ কিছু ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। তবে প্রেস উইং জানিয়েছে, এই দাবিগুলো সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, আলোচ্য দিবসগুলো ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্রবার বা শনিবারের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সেগুলোকে আলাদাভাবে ‘ছুটি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি ছুটি যদি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ে, তবে তার জন্য অতিরিক্ত কোনো কর্মদিবস ছুটি বরাদ্দ করা হয় না।
ছুটির তালিকায় কেন 'শূন্য' দিন?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন বা Notification বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু দিবসের বিপরীতে ছুটির সংখ্যা ‘শূন্য’ লেখা রয়েছে। এই ‘শূন্য’ সংখ্যাটিই বিভ্রান্তির মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী নিচের দিবসগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে:
১৭ জানুয়ারি (শনিবার): শবে মেরাজ
২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার): শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা
২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার): শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
১ মে (শুক্রবার): মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা)
২৬ জুন (শুক্রবার): পবিত্র আশুরা (মহররম)
৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার): শুভ জন্মাষ্টমী
২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার): মধু পূর্ণিমা
১০ অক্টোবর (শুক্রবার): শুভ মহালয়া
এই দিবসগুলো যেহেতু আগে থেকেই সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, তাই প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে এগুলোকে যুক্ত করার সুযোগ নেই। ফলে কারিগরি কারণে সেখানে ছুটির দিন সংখ্যা ‘শূন্য’ দেখানো হয়েছে।
পূর্ববর্তী বছরের ধারাবাহিকতা ও প্র্যাকটিস
প্রেস উইং তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করেছে যে, এটি কোনো নতুন নিয়ম বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। গত দুই বছরের (২০২৪ ও ২০২৫) সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করলেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। অতীতেও যখনই কোনো জাতীয় বা ধর্মীয় ছুটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে, তখন আলাদাভাবে কোনো কর্মদিবস ছুটি দেওয়া হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের একটি প্রশাসনিক রীতি যা বর্তমান সরকারও অনুসরণ করছে।
Fact Check: অপপ্রচার রোধে সতর্কতা
বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যমে ছুটি বাতিলের খবরটি যেভাবে পরিবেশন করা হয়েছে, তাকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে এ ধরনের Social Media গুজব এবং বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মূলত, ২০২৬ সালে উৎসবের দিনগুলো সাপ্তাহিক ছুটির কবলে পড়ায় সরকারি চাকুরেদের জন্য বাড়তি ছুটির সুযোগ কমলেও, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বা দিবসের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো পদক্ষেপ সরকার নেয়নি।