দেশের ক্রিকেটের অভিজ্ঞ নাম মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবারের বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ)-এ রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন। বিপিএলের নিলাম প্রক্রিয়ায় প্রথম দফায় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে নিতে আগ্রহ না দেখালেও, পরে রংপুর রাইডার্স তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই সুযোগ পেয়েই যেন ব্যাট হাতে পুরোনো রূপে ফিরেছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটিং অলরাউন্ডার। একের পর এক ম্যাচে দলের জয়ে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, যা এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার মূল কেন্দ্রে।
রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের মতে, মাহমুদুল্লাহ বর্তমানে যে ছন্দে ব্যাটিং করছেন, তা বিগত তিন-চার বছরের মধ্যে তার সেরা পারফরম্যান্স। গত রোববার চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের দারুণ জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রাখেন। এর আগে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৬ বলে ৩৪ এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ৫১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। পরপর তিন ম্যাচে দলের জয়ের কারিগর হিসেবে কাজ করে কোচের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই 'সাইলেন্ট কিলার'।
আশরাফুলের চোখে রিয়াদের 'স্বর্ণযুগ' ও বর্তমান ছন্দ
চট্টগ্রামের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মাহমুদুল্লাহ এখন যে ব্যাটিং করছে, নিঃসন্দেহে ওর গত ৩-৪ বছরের মধ্যে সেরা। তবে ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল হাথুরুসিংহের সময়, অর্থাৎ ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। সেই সময়ের পারফরম্যান্স গ্রাফ ছিল অবিশ্বাস্য। তবে বর্তমানেও সে অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে এবং এটা আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা তাকে দলে পেয়েছি।”
আশরাফুল আরও উল্লেখ করেন যে, একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিসেবে মাহমুদুল্লাহর এই পারফরম্যান্স কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
'ফিনিশার' ভূমিকায় অবিচল আস্থা: নিলামের পরের গল্প
রংপুর রাইডার্সের টেকনিক্যাল টিম কীভাবে মাহমুদুল্লাহকে দলে নিয়েছে, সেই কৌশলগত দিকটিও স্পষ্ট করেন আশরাফুল। তিনি জানান, দলের একজন নির্ভরযোগ্য 'ফিনিশার'-এর প্রয়োজন ছিল। সেই লক্ষ্যেই তারা নিলামে বসেছিলেন এবং মাহমুদুল্লাহ তাদের প্রথম পরিকল্পনাতেই ছিলেন।
আশরাফুল বলেন, “আমরা যখন নিলামে বসেছিলাম, আমাদের একজন ফিনিশার প্রয়োজন ছিল। মাহমুদুল্লাহ ২০০৭ সালে অভিষেক করার পর থেকে আমরা সবাই জানি, এই ভূমিকাটা সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা জানতাম যে, এই পজিশনে একজনকে দরকার এবং মাহমুদুল্লাহর চেয়ে ভালো কেউ এই মুহূর্তে নেই।” দলের প্রয়োজনে কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত রান তোলার যে দক্ষতা এই ক্রিকেটারের মধ্যে আছে, তাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিল রংপুর রাইডার্স ম্যানেজমেন্ট।
সফলতার মূলমন্ত্র: ফিটনেস ও মস্তিষ্কের কাজ
মাহমুদুল্লাহর বর্তমান সাফল্যের পেছনে তার ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির ভূমিকা তুলে ধরেন সাবেক এই ব্যাটিং তারকা। তিনি বলেন, “মাহমুদুল্লাহ তো আমাদের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বিশ্ব ক্রিকেটে যদি দেখেন, যারা কিংবদন্তি ক্রিকেটার, বিশেষ করে যারা ব্যাটার, তাদের কম ব্যাটিং প্র্যাকটিস করলেই হয়। তারা মস্তিষ্কের কাজটাই বেশি করেন, যাকে আমরা বলি 'মেন্টাল প্রসেস'।”
বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের অনুশীলনের ধরনও আশরাফুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সে (মাহমুদুল্লাহ) এখন প্রচুর ফিটনেসের কাজ করে, জিমে সময় দেয়। এটা আসলে মূল ব্যাপার হওয়া উচিত। যারা ভালো ব্যাটার, তাদের বেশি বোলিং করা লাগে না, আমি মনে করি। কিন্তু সে প্রচুর ট্রেনিং করে এবং যে টুর্নামেন্ট খেলবে, সেটার জন্য ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়। এখন নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করে এবং মস্তিষ্ক দিয়ে খেলার পরিকল্পনা করে।” এই প্রফেশনাল এপ্রোচই তাকে আবারো সেরা ছন্দে ফিরতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন দলের সহকারী কোচ।