নেতানিয়াহুর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও ‘রেড লাইন’ সোমবার (৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার সরকারের কঠোর নীতির কথা জানান। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট ও সুদৃঢ়। তিনি কিছু 'অ-আলোচনাযোগ্য রেড লাইন'-এর কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে বাধ্য করা, সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা। এই নীতির প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হওয়া এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা রোধ করা।
ট্রাম্পের সঙ্গে ঐকমত্য ও সন্ত্রাসের অভিযোগ নেতানিয়াহু জানান, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে দুই নেতাই ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে একমত হন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তিনি ওয়াশিংটন সফরের আগে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডেরই ইঙ্গিত বলে মনে করেন। তিনি আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে ইসরায়েলের ওপর হামলা হলে দেশটি শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের জনগণের পাশে ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরীণ চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবিতে আন্দোলনরত ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে ইসরায়েল। তার মতে, বর্তমান সময়টি ইরানি জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে।
তেহরানের আশঙ্কা অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে ইরানের এক কর্মকর্তা তেহরানের আশঙ্কার কথা বলেছেন। তাদের ধারণা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান।
ইরানে বিক্ষোভ ও হতাহতের ঘটনা গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন ও খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশের ২৬টি প্রদেশের ৭৮টি শহরের অন্তত ২২২টি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে মূলত অর্থনৈতিক দাবি উঠে আসে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২২ জন নিহত, ৫১ জন আহত এবং ৯৯০ জনকে আটক করা হয়েছে।