দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ‘এসএ২০’ (SA20)-তে গতরাতে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল সেঞ্চুরিয়ন। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের দেওয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ যে এমন রুদ্রমূর্তি ধারণ করবে, তা হয়তো অতিবড় ক্রিকেটবোদ্ধাও কল্পনা করতে পারেননি। জনি বেয়ারস্টো ও কুইন্টন ডি ককের খুনে মেজাজের ব্যাটিংয়ে ১০ উইকেট আর ৩৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইস্টার্ন কেপ। তবে ম্যাচের মূল হাইলাইট ছিল প্রিটোরিয়া অধিনায়ক কেশভ মহারাজের এক ওভারে বেয়ারস্টোর ৫টি ছক্কা হাঁকানোর মহাকাব্যিক মুহূর্ত।
সেঞ্চুরিয়নে প্রিটোরিয়ার লড়াই ও রাদারফোর্ডের ক্যামিও
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের অধিনায়ক কেশভ মহারাজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে তারা। ওপেনার কনর এস্থারহুইজেন ৩৩ বলে ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন। তবে মিডল অর্ডারে ধস নামলে দলের হাল ধরেন শেরফানে রাদারফোর্ড। তার ২২ বলে ৪৭ রানের হার না মানা ঝোড়ো ইনিংসে লড়াকু পুঁজি পায় প্রিটোরিয়া।
সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে বল হাতে দাপট দেখান স্পিডস্টার আনরিখ নরকিয়া। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৩টি উইকেট। এছাড়া অ্যাডাম মিলনে ২টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন।
বেয়ারস্টো-ডি কক জুটির রাজকীয় তাণ্ডব
১৭৭ রানের লক্ষ্য আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও, ইস্টার্ন কেপের দুই ওপেনারের কাছে তা মামুলি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কুইন্টন ডি কক ৪১ বলে ৭৯ রান করে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন, যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৬টি দর্শনীয় ছক্কা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বেয়ারস্টো খেলেন ৪৫ বলে ৮৫ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস। এই দুই ব্যাটারের Strike Rate এবং টাইমিংয়ের সামনে প্রিটোরিয়ার বোলাররা ছিলেন একেবারেই অসহায়।
মহারাজের এক ওভারে ৩৪ রান: ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় ১২তম ওভারে। ১১ ওভার শেষে ইস্টার্ন কেপের সংগ্রহ ছিল ১১৬ রান। বোলিংয়ে আসেন খোদ অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ স্পিনার কেশভ মহারাজ। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছিলেন তিনি। কিন্তু ১২তম ওভারে তার ওপর দিয়ে আক্ষরিক অর্থেই স্টিমরোলার চালিয়ে দেন জনি বেয়ারস্টো।
মহারাজের করা ওভারের প্রথম তিন বলেই লং অন এবং মিড উইকেটের ওপর দিয়ে তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান বেয়ারস্টো। চতুর্থ বলে চার মারার পর পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে আবারও আকাশচুম্বী দুটি ছক্কা। এক ওভারেই আসে ৩৪ রান! এটি এসএ২০-এর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার (Most Expensive Over)। এই এক ওভারেই মহারাজের বোলিং ফিগার লণ্ডভণ্ড হয়ে দাঁড়ায় ৩-০-৫০-০-তে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে সানরাইজার্স
এই বিধ্বংসী জয়ের ফলে ৫ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে League Table-এর শীর্ষে উঠে এল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। তাদের এই দাপুটে জয় টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ৫ ম্যাচে মাত্র ১টি জয় নিয়ে টেবিলের তলানির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে (৫ম) অবস্থান করছে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস।
ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটে জনি বেয়ারস্টোর এই বিধ্বংসী ব্যাটিং আবারও প্রমাণ করল কেন তাকে সাদা বলের ক্রিকেটের অন্যতম ভয়ংকর ব্যাটার হিসেবে গণ্য করা হয়। সেঞ্চুরিয়নের এই ম্যাচটি দীর্ঘকাল ক্রিকেট ভক্তদের মনে গেঁথে থাকবে মহারাজের অসহায়ত্ব আর বেয়ারস্টোর পাওয়ার হিটিংয়ের জন্য।