• জাতীয়
  • নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ানো ব্যক্তিরা সরকারের নজরদারিতে: প্রস্তুতির খতিয়ান দিলেন প্রেস সচিব

নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ানো ব্যক্তিরা সরকারের নজরদারিতে: প্রস্তুতির খতিয়ান দিলেন প্রেস সচিব

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ানো ব্যক্তিরা সরকারের নজরদারিতে: প্রস্তুতির খতিয়ান দিলেন প্রেস সচিব

৩৭ দিনের কাউন্টডাউন; গণভোটে ধর্মীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অন্তর্বর্তী সরকার।

আয়োজন প্রায় সম্পন্ন, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণী ‘গণভোট’ নিয়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা বা বিভ্রান্তি বরদাশত করবে না অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, যারা নির্বাচন নিয়ে জনমনে অহেতুক সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের গতিবিধি এবং প্রোফাইল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।

সংশয়বাদীদের প্রতি কড়া বার্তা

নির্বাচনের আর মাত্র ৩৭ দিন বাকি। এমন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে প্রেস সচিব বলেন, "যারা এখনও নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদের অতীত রেকর্ড এবং রাজনৈতিক পরিচয় সরকারের নখদর্পণে। তারা কেন এবং কার স্বার্থে এই মুহূর্তে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তা সরকার স্পষ্টভাবে জানে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো গোষ্ঠী যাতে গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল ও সাম্প্রতিক সাফল্য

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম জানান, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি’র মধ্যে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস কাজ করছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া তিনটি বড় ইভেন্টের কথা উল্লেখ করেন— শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা। এই মেগা ইভেন্টগুলো কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পন্ন হওয়াকে তিনি সরকারের ‘Security Protocol’-এর বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন।

১০০ বছরের দিকনির্দেশনা ও গণভোট

আসন্ন গণভোটকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, "এই ভোটের মাধ্যমেই আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত হবে। তাই জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে দেশের প্রায় ৪ লাখ মসজিদ, মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ও ‘গানম্যান’ বরাদ্দ

নির্বাচনী ডামাডোলে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। শফিকুল আলম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে ‘গানম্যান’ বা সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ‘Special Branch’ (SB) নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে যাতে কোনো নেতা বা প্রার্থী কোনো ধরনের হুমকির সম্মুখীন না হন।

যশোর হত্যাকাণ্ড: অপপ্রচার রুখতে সরকারের ফ্যাক্ট-চেক

সংবাদ সম্মেলনে যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার বিষয়টিতে বিশেষ আলোকপাত করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চলমান অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিহতের সাংবাদিক বা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে যারা বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক বা গণমাধ্যমের ওপর হামলা হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছেন, তারা ভুল তথ্য দিচ্ছেন।

ফয়েজ আহম্মদ বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রানা প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে সাংবাদিকতা বা ধর্মীয় চেতনার কোনো সম্পর্ক নেই।" তিনি জনসাধারণকে এ ধরনের ‘Fake News’ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

উপসংহার

নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী সরকার দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। পোস্টাল ব্যালট, ভোটার নিবন্ধন এবং ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণার মতো টেকনিক্যাল কাজগুলো এখন শেষ পর্যায়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই ব্রিফিং থেকে এটি স্পষ্ট যে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপপ্রচার মোকাবিলায় তারা ‘Iron Fist’ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

Tags: interim government fact check fake news election 2026 political security shafikul alam referendum bangladesh security surveillance election countdown internal security