শৈত্যপ্রবাহের বিস্তৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর এবং কুমিল্লা জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরও বেশ কিছুদিন ধরে বিরাজমান থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা
পূর্বাভাসে আবহাওয়াগত কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় রয়েছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে, যা শীতের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
কুয়াশা ও তাপমাত্রার পূর্বাভাস
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে—অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ অবস্থায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কিছু কিছু এলাকায় তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পরবর্তী ৪ দিনের পূর্বাভাস (৮ থেকে ১১ জানুয়ারি)
- ৮ ও ৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতি ও শুক্রবার): আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে এবং বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে বা কমতে পারে।
- ১০ ও ১১ জানুয়ারি (শনি ও রোববার): শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ৫ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহের দাপট অব্যাহত থাকবে।