‘তারে জমিন পার’ ও ফোন নম্বর বিভ্রাট
বলিউডের এককালের অন্যতম জনপ্রিয় কালজয়ী সিনেমা ‘তারে জমিন পার’–এর সংবেদনশীল শিক্ষক ‘রাম শঙ্কর নিকুম্ভ’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্মাতার প্রথম পছন্দ আমির খান ছিলেন না, ছিলেন অক্ষয় খান্না। ছবির চিত্রনাট্যকার ও মূল ভাবনার কারিগর অমোল গুপ্ত অক্ষয়কেই চেয়েছিলেন। কিন্তু অক্ষয়ের ফোন নম্বর না থাকায় তিনি যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। অমোলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তিনি আমির খানের কাছে অক্ষয়ের নম্বর চান। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। নম্বর দেওয়ার বদলে আমির জানতে চান, কেন অক্ষয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান অমোল।
আমিরের ‘মাস্টারস্ট্রোক’
অমোল যখন পুরো ছবির ভাবনা ও চিত্রনাট্যের খসড়া আমিরকে শোনান, তখন মুগ্ধ হয়ে যান ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। বলিপাড়ার একাংশের দাবি, আমির আগেই আঁচ করেছিলেন ছবিটি বক্স অফিসে ইতিহাস গড়বে। তাই তিনি অমোলকে অনুরোধ করেন, অক্ষয়ের বদলে যেন তাকেই শিক্ষকের চরিত্রে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেও স্বীকার করেন যে, চিত্রনাট্য পড়ে তার মনে হয়েছিল এই চরিত্রটি তিনি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।
পরিচালনা ও গল্প কেনেন আমির
আমির খানের আরও মনে হয়েছিল যে, অমোল গুপ্ত পরিচালনার জন্য তখনো প্রস্তুত ছিলেন না। ফলে তিনি অমোলের কাছ থেকে গল্পটি কিনে নেন এবং পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন। আর এভাবেই অক্ষয় খান্নার মতো গুণী অভিনেতা ছবি থেকে বাদ পড়েন এবং চরিত্রটি চলে যায় আমির খানের হাতে।
অক্ষয়ের বন্ধুত্বের প্রতিক্রিয়া
‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির শুটিং থেকেই আমির ও অক্ষয়ের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব ছিল। ‘তারে জমিন পার’ মুক্তির পর আমির খান নিজেই অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। চমকপ্রদ বিষয় হলো, নিজের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হয়েছে জেনেও বন্ধু আমিরের ওপর কোনো রাগ বা ক্ষোভ পোষণ করেননি অক্ষয় খান্না। তবে ভক্তদের মনে আজও প্রশ্ন, আমির যদি সেই সুযোগটি অক্ষয়কে দিতেন, তবে আজ হয়তো তার ক্যারিয়ারের গ্রাফটা অন্যরকম হতে পারত।