• আন্তর্জাতিক
  • ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ জাতিসংঘের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত বৈষম্যের অভিযোগ জাতিসংঘের

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের কয়েক দশকের বৈষম্য ও বিচ্ছিন্নকরণ প্রক্রিয়া আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি ইসরায়েলকে তাদের এই ‘বর্ণবাদী ব্যবস্থা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর তাদের নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত বৈষম্য’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করা হচ্ছে। পানি সংগ্রহ, স্কুলে যাওয়া, হাসপাতালে ছুটলে কিংবা জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ইসরায়েলের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও সংকুচিত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এটি জাতিগত বৈষম্য ও বিচ্ছিন্নকরণের একটি অত্যন্ত মারাত্মক রূপ, যা অতীতে দেখা বর্ণবাদী ব্যবস্থার সঙ্গেই তুলনীয়।

এবারই প্রথম জাতিসংঘের কোনও মানবাধিকার প্রধান সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য দুটি আলাদা আইন ও নীতি অনুসরণ করে, যার ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই ফিলিস্তিনিরা অসম আচরণের শিকার হন। বড় পরিসরে জমি দখল, সামরিক আদালতে বিচার এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে এবং অংশগ্রহণে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের হামলায় অন্তত ৪৪ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বিচারহীনতার একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মাত্র ১১২টি তদন্ত শুরু করেছে। এর মধ্যে সাজা হয়েছে মাত্র ১টি ঘটনায়। বর্তমানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি কোনও অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ‘প্রশাসনিক আটকের’ অধীনে বন্দি রয়েছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পৃথকীকরণ ও আধিপত্য বিস্তারের নীতিগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন বজায় রাখার জন্য স্থায়ী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সংস্থাটি ইসরায়েলকে অবিলম্বে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে তাদের অবৈধ উপস্থিতি বন্ধ এবং সব বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Tags: অভিযোগ বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জাতিসংঘ ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বৈষম্যের