বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না।
অসুস্থতা ও সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট বুধবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, জামায়াত আমির যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাকে দেখতে এসেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় দূতাবাস থেকেও তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য একটি অনুরোধ আসে। মানবিক কারণে জামায়াত সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল, কারণ অসুস্থ একজন মানুষকে দেখতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার কোনো কারণ নেই।
গোপনীয়তার অনুরোধ রক্ষা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের দাবি করেন, ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ না করার (প্রাইভেট রাখার) অনুরোধ জানানো হয়েছিল। জামায়াত সেই অনুরোধ বজায় রেখেছিল। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সেখানে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি, শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।
নির্বাচনে বহিঃশক্তির প্রভাব ও জামায়াত বাংলাদেশের নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচনে বহিঃশক্তির একটা ইনভলভমেন্টের চেষ্টা সবসময়ই থাকে, তবে তা সবসময় দৃশ্যমান হয় না। অতীতেও এমন কালচার দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাথে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকের খবরকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ এদিন নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে জামায়াত নেতারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কোনো কোনো নেতার ২১ জানুয়ারির আগে রাজনৈতিক সফর বা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। কমিশন এ ব্যাপারে কী ভূমিকা নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি।