ঢালিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী নির্মাতা রায়হান রাফী বরাবরই পর্দায় নতুন কিছু উপহার দিতে সিদ্ধহস্ত। এবার তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আর এই সিনেমার হাত ধরেই দীর্ঘ তিন বছর পর রাফীর পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। নারীকেন্দ্রিক এই গল্পের শুটিং ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, যা নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় বইছে আলোচনার ঝড়।
তিন বছর পর পুরনো রসায়ন
২০২২ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘৭ নাম্বার ফ্লোর’-এ রায়হান রাফী ও শবনম বুবলী একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। সেই প্রোডাকশনটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দীর্ঘ তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও এই পরিচালক-অভিনেত্রী জুটি বড় পর্দার জন্য এক হয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টদের মতে, রাফীর ইউনিক স্টোরিটেলিং এবং বুবলীর পরিণত অভিনয় ‘প্রেশার কুকার’-কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
গল্পের গভীরতা ও বুবলীর উচ্ছ্বাস
‘প্রেশার কুকার’ মূলত একটি ওম্যান-সেন্ট্রিক বা নারীকেন্দ্রিক সিনেমা। চিত্রনাট্যের ডিটেইলস নিয়ে এখনই মুখ না খুললেও বুবলী তাঁর উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি। অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমার গল্পটি আমার কাছে এক কথায় চমৎকার লেগেছে। আমার চরিত্রটি অত্যন্ত ইনটেন্স এবং ইন্টারেস্টিং। এখানে নতুন কিছু করার এবং নিজেকে ভাঙার মতো যথেষ্ট এলিমেন্ট আছে। মূলত এই চ্যালেঞ্জিং জায়গাটাই আমাকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
কাস্টিং চমক ও রহস্যময় পুরুষ চরিত্র
সিনেমাটিতে বুবলীর পাশাপাশি আরও দুই শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন ‘হাওয়া’ খ্যাত নাজিফা তুষি এবং তরুণ অভিনেত্রী মারিয়া শান্ত। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনা চলছে সিনেমার রহস্যময় পুরুষ চরিত্রটি নিয়ে। গুঞ্জন উঠেছে, এই বিশেষ চরিত্রে ঢাকাই সিনেমার দুই পাওয়ারহাউস পারফর্মার জাহিদ হাসান অথবা চঞ্চল চৌধুরীকে দেখা যেতে পারে। যদিও প্রযোজনা সংস্থা থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি, তবে এমন হেভিওয়েট কাস্টিং সিনেমার ব্র্যান্ড ভ্যালু যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তা নিশ্চিত।
ঈদুল ফিতরের লক্ষ্য ও বাজার সম্ভাবনা
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখেই ‘প্রেশার কুকার’-এর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ঈদ মানেই বড় বাজেটের সিনেমা এবং বক্স অফিস যুদ্ধের জমজমাট আসর। রায়হান রাফী তাঁর মেকিং স্টাইল এবং সাবজেক্ট সিলেকশনে যেভাবে দর্শকদের হলমুখী করছেন, তাতে এই সিনেমাটিও বড় ধরনের কমার্শিয়াল সাকসেস বা ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। থ্রিলার ও ড্রামার মিশেলে তৈরি এই সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রের ডিজিটাল ডিসকোর্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারসংক্ষেপ:
একদিকে রায়হান রাফীর নিপুণ নির্মাণ, অন্যদিকে বুবলী, তুষি ও মারিয়া শান্তর অনস্ক্রিন পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ হতে যাচ্ছে আগামী বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। নারীকেন্দ্রিক গল্পের আবহে সমাজের গভীর কোনো সত্য উঠে আসবে কি না, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষা কেবল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির।