আমাদের শরীরের একটি প্রাকৃতিক 'সিগন্যাল ল্যাম্প' হলো প্রস্রাবের রং। ব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়শই এই বিষয়টি গুরুত্ব দিই না, অথচ প্রস্রাবের রঙের সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড কি না, কিডনি বা লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না—এর প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে শুধু প্রস্রাবের রং দেখেই।
স্বাভাবিক এবং সতর্কতার রং সুস্থ শরীরের সবচেয়ে ভালো লক্ষণ হলো হালকা হলুদ বা খড়ের মতো রং। এটি নির্দেশ করে শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। তবে বিভিন্ন রং বিভিন্ন বার্তা দেয়:
- স্বচ্ছ বা একদম পানির মতো: এটি অতিরিক্ত পানি পানের ইঙ্গিত দেয়। যদিও এটি বড় কোনো সমস্যা নয়, তবে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
- গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বারের মতো: এই রং ডিহাইড্রেশনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। শরীর তখন সংকেত দেয়, এখনই পানি দরকার। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমন রং হওয়া স্বাভাবিক।
- কমলা রং: কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন সি বা অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাব কমলা হতে পারে। তবে ওষুধ ছাড়াও যদি এমন হয়, তাহলে তা লিভার বা পিত্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
- নীল বা সবুজ: এটি খুবই বিরল। খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা কিছু বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাব নীলাভ বা সবুজ দেখাতে পারে।
বিপজ্জনক সংকেত: কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
প্রস্রাবের দুটি রং বা অবস্থা সবচেয়ে বেশি সতর্কতার দাবি রাখে, এবং এগুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:
১. লালচে বা গোলাপি: আগের রাতে বিট বা ব্লুবেরি জাতীয় খাবার না খেয়ে থাকলে এই রং রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI), কিডনিতে পাথর কিংবা প্রস্টেটজনিত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
২. ফেনার মতো প্রস্রাব: রঙের চেয়েও যদি প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বেশি দেখা যায়, তবে সেটি কিডনির গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। এর মানে হলো প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে।
যদি প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা যায়, অথবা কোনো রং বা ফেনা দীর্ঘসময় ধরে স্বাভাবিকের বাইরে থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।