তদন্ত কমিটি গঠন গত ৩১ ডিসেম্বরের এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার বিস্তারিত বিমান সূত্র অনুযায়ী, সিলেট থেকে উড্ডয়নের পর বিমানটির ফ্লাইট বিজি-২০১ পাকিস্তানের আকাশসীমায় লাহোরের কাছাকাছি পৌঁছালে একজন যাত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হন। ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট 'মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি' ঘোষণা করে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঢাকায় অবতরণের পর ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিমান চলাচল বিধিমালা নিয়ে প্রশ্ন বিমান চলাচল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে, 'মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি'র ক্ষেত্রে ফ্লাইটের কাছাকাছি কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত জরুরি অবতরণ করার কথা। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, পাকিস্তানের আকাশসীমায় থাকাকালীন লাহোর বা নিকটবর্তী অন্য কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হলে রোগী দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারতেন এবং সেক্ষেত্রে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু পাইলট তা না করে কেন প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট করে ঢাকায় ফিরলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৩ সালের একই ধরনের ঘটনা এর আগে ২০২৩ সালেও লন্ডনগামী একই ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। তখনও যাত্রী অসুস্থ হওয়ার পরেও জরুরি অবতরণ না করে উড়োজাহাজটি সরাসরি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়েও সে সময় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় বায়ুর চাপ পরিবর্তন, কেবিন প্রেসার কমে যাওয়া, ঝাঁকুনি বা মানসিক চাপ অনেক অসুস্থ রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক বা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ যাত্রীরা এসব ধকল সহ্য করতে পারেন না। এ কারণে যাত্রার আগে স্বাস্থ্যগত কোনো তথ্য গোপন না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়।