চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল তৈরি ও ফিশিং বোটে সেই সরঞ্জাম স্থাপনের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে এক ভারতীয় নাগরিকসহ মোট সাতজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি কারিগর।
অভিযানের বিবরণ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় কর্ণফুলী থানার চর পাথরঘাটা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ১২টি নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল এবং জাল তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। আটক হওয়া সাতজনের মধ্যে প্রধান কারিগর হিসেবে এক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
আটক ভারতীয় নাগরিকের পরিচয় আটক হওয়া ভারতীয় নাগরিকের নাম পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৯), তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকালে ভ্রমণ ভিসায় এসে কাঠের ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন ও ট্রলিং জাল তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি গত বছরের ২৭ নভেম্বর ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন।
পুনরায় একই অপরাধে জড়ানো কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও এই ভারতীয় নাগরিক একাধিকবার বাংলাদেশে প্রবেশ করে বরগুনার পাথরঘাটা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। গত বছরের আগস্ট মাসে কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানেও তাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় একই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এই ধরনের অবৈধ ট্রলিং কার্যক্রম উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।