• খেলা
  • পেনাল্টি রোমাঞ্চে মার্শেই বধ: পিএসজিতে এনরিকের ‘দশক’ পূর্ণ, মধ্যপ্রাচ্যের আঙিনায় শিরোপা উৎসব

পেনাল্টি রোমাঞ্চে মার্শেই বধ: পিএসজিতে এনরিকের ‘দশক’ পূর্ণ, মধ্যপ্রাচ্যের আঙিনায় শিরোপা উৎসব

খেলা ১ মিনিট পড়া
পেনাল্টি রোমাঞ্চে মার্শেই বধ: পিএসজিতে এনরিকের ‘দশক’ পূর্ণ, মধ্যপ্রাচ্যের আঙিনায় শিরোপা উৎসব

উসমান দেম্বেলে ও রামোসের গোলে নাটকীয় ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জয়; আড়াই বছরে ১০ শিরোপা জিতে রেকর্ড গড়লেন স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে।

ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের একাধিপত্য ধরে রেখে আরও একটি ট্রফি ক্যাবিনেটে তুলল ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (PSG)। কুয়েতের জাবের আল-আহমদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফ্রেঞ্চ সুপার কাপের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্শেইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারিসিয়ানরা। এই জয়ের ফলে গত আড়াই বছরে স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকের অধীনে ১০টি শিরোপা জয়ের অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল ক্লাবটি।

কুয়েতের মাঠে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই ও ‘রামোস-ম্যাজিক’

মরুর বুকে ফ্রেঞ্চ ফুটবলের এই মহারণে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পিএসজি। ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটেই উসমান দেম্বেলের চমৎকার এক ‘Clinical Finish’-এ এগিয়ে যায় তারা। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল চিপ করে জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ ১-০ ব্যবধানে শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে শুরু হয় চরম নাটকীয়তা।

ম্যাচের শেষ ২২ মিনিটে দেখা যায় তিনটি গোল। ৭৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরে মার্শেই। এরপর ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচোর একটি দুর্ভাগ্যজনক ‘Own Goal’ বা আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে পিএসজি। যখন মনে হচ্ছিল শিরোপা মার্শেইয়ের হাতে উঠতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ৮৮ মিনিটে দৃশ্যপটে হাজির হন গনকালো রামোস। তার দুর্দান্ত এক গোলে ২-২ সমতায় ফেরে পিএসজি, যা ম্যাচটিকে নিয়ে যায় পেনাল্টি শুটআউটে।

শুঁটআউটে পিএসজির পেশাদারিত্ব ও টাইব্রেকার জয়

টাইব্রেকারে পিএসজির খেলোয়াড়রা দেখিয়েছেন চূড়ান্ত স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। মার্শেই তাদের প্রথম দুটি শট মিস করলে পিএসজির জন্য জয়ের পথ সহজ হয়ে যায়। প্যারিসের হয়ে গনকালো রামোস, ভিতিনহা, নুনো মেন্ডেস এবং দেজিরে দুয়ে—প্রত্যেকেই লক্ষ্যভেদ করেন। ফলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উৎসবে মেতে ওঠে লুইস এনরিকের দল। দলের এই জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাদের ‘Tactical Discipline’ এবং পেনাল্টি শুটআউটে খেলোয়াড়দের নিখুঁত নিশানার।

লুইস এনরিকে: আড়াই বছরে ১০ শিরোপার মহাকাব্য

২০২৩ সালের জুলাইয়ে যখন লুইস এনরিকে পিএসজির দায়িত্ব নেন, তখন ক্লাবের প্রধান লক্ষ্য ছিল ঘরোয়া আধিপত্যের পাশাপাশি ইউরোপের সেরা হওয়া। মাত্র আড়াই বছরের মাথায় এনরিকে যেন সেই আস্থার পূর্ণ প্রতিদান দিলেন। এই সময়ে তিনি পিএসজিকে জিতিয়েছেন দুটি লিগ ওয়ান শিরোপা, দুটি ফ্রেঞ্চ কাপ এবং টানা তিনটি ফ্রেঞ্চ সুপার কাপ। তবে তার মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল পালকটি হলো ‘Champions League’ ট্রফি। এছাড়াও উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপ জিতে তিনি পিএসজিকে ফুটবলের গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এনরিকের অধীনে ১০টি শিরোপা জয় প্রমাণ করে যে, পিএসজি এখন কেবল তারকা সমৃদ্ধ দল নয়, বরং একটি ‘Winning Machine’-এ পরিণত হয়েছে।

রেকর্ড বইয়ে পিএসজি ও আগামীর সম্ভাবনা

গত এক বছরে লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ফ্রেঞ্চ কাপ ও উয়েফা সুপার কাপের পর এই সুপার কাপ জয় পিএসজির ‘Clean Sweep’ মিশনকে পূর্ণতা দিল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এনরিকের গেম প্ল্যান এবং তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঠিক সংমিশ্রণই পিএসজিকে অপরাজেয় করে তুলেছে। এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের আগে দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। মার্শেইয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে কুয়েতের মাটিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা পিএসজির জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

Tags: football sports news match report champions league psg penalty shootout luis enrique french super cup marseille trophy