• জাতীয়
  • প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন: নির্বাচন ঘিরে মাঠ প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন: নির্বাচন ঘিরে মাঠ প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন: নির্বাচন ঘিরে মাঠ প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ঢালাও অভিযোগ আমলে না নেওয়ার ইঙ্গিত; কর্মকর্তাদের গণবদলি নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বর্তমান কাঠামোতেই সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা সচিবালয়ে।

জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এই আবহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ‘পক্ষপাতিত্ব’ নিয়ে যে বিতর্ক তোলা হচ্ছে, তাকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থার কথা জানান।

অভিযোগের ‘বাস্তব ভিত্তি’ নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন নয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "নির্বাচন সামনে এলে কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে এ ধরনের অভিযোগ তোলা একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে কেবল অভিযোগ করলেই হবে না, তার বাস্তব ভিত্তি থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে যে অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘Bias’ বা পক্ষপাতিত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সরকার কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। তবে অহেতুক অভিযোগে প্রশাসনের ‘Moral’ বা মনোবল ভেঙে দেওয়া সমীচীন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাঠ প্রশাসনে রদবদল: সিদ্ধান্ত কি নির্বাচন কমিশনের?

নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (DC) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (UNO) মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের ‘Reshuffling’ বা রদবদল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই প্রশাসনিক পাড়ায় গুঞ্জন চলছিল। এ বিষয়ে সচিব জানান, সরকার আপাতত মাঠ প্রশাসনে কোনো বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে না। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অনেক সিদ্ধান্তই ‘Election Commission’ (EC)-এর এখতিয়ারে চলে যায়।

সচিবের ভাষায়, "সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে যদি নির্বাচন কমিশন মনে করে কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা প্রয়োজন, তবে তারা নির্দেশনা দেবে। কমিশন নির্দেশ দিলে সরকার সেই অনুযায়ী ‘Action’ নেবে। এটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ।"

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও ‘Institutional Integrity’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিশ্বাস করেন, বর্তমান জনবল এবং যে প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে, তা দিয়েই একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। প্রশাসনের ‘Institutional Integrity’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সততা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা কোনো দলের নয়, তারা রাষ্ট্রের সেবক। নির্বাচনকালীন সময়ে তারা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে তার স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে দেওয়া উচিত। অহেতুক নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে প্রশাসনের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না। একটি ‘Level Playing Field’ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনী উত্তাপের এই সময়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এমন বক্তব্য কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার খোরাক দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তনের নির্দেশনা আসে কি না।

Tags: public trust election commission bangladesh news civil service governance election 2026 cabinet secretary admin bias field administration neutrality