দেশের মানুষের রক্ত-ঘামে অর্জিত অর্থ যারা বিদেশে পাচার করেছে এবং যারা ব্যাংক লুটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে, তাদের জন্য জাতীয় সংসদের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের এই প্রার্থী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামীর সংসদ পরিচালিত হবে কেবল ‘ইনসাফ’ ও ন্যায়বিচারের নীতিতে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর ঈদগাহ মাঠে এক জনাকীর্ণ উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
লুটেরা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যারা জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে এবং ঋণখেলাপি (Debt Defaulter) হয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে, তারা এদেশের শত্রু। এই লুটেরাদের আর কখনোই পবিত্র সংসদে জায়গা দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের সংসদ হবে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, কোনো কালো টাকার মালিকের বিলাসভূমি নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংক লুটেরাদের দিন ফুরিয়ে আসছে এবং প্রতিটি পয়সার হিসাব বাংলার মাটিতেই নেওয়া হবে।
আদর্শিক রাজনীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থাকার অঙ্গীকার
নিজের জন্মমাটির মানুষের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমার কোনো অবৈধ বিত্ত-বৈভব নেই, কোনো জাগতিক প্রলোভন (Prolobhon) আমাকে আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি প্রয়াত ওসমান হাদির সততা ও আদর্শকে বুকে ধারণ করেছি। তার দেখানো পথেই নিজেকে জনসেবায় উৎসর্গ করতে চাই।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, ন্যায়নিষ্ঠা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাই হবে তার রাজনীতির প্রধান ‘চালিকাশক্তি’।
দ্বিমুখী রাজনৈতিক লড়াই ও ভারতীয় আগ্রাসন
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই এনসিপি নেতা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রয়েছে যারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও মেহনতি মানুষের স্বার্থ রক্ষায় লড়ছে। আর অন্যদিকে রয়েছে তারা, যারা জুলুম, দুর্নীতি ও ভারতীয় আগ্রাসনের (Aggression) পালে হাওয়া দিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সৎ, দক্ষ ও ‘করাপশন ফ্রি’ বা দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ছাড়া একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব।
ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতীয় অঙ্গীকার
প্রয়াত নেতা ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাদি ভাইয়ের মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; তাকে হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এখন একটি ‘জাতীয় অসিয়ত’ (National Legacy)। এই বাংলার মাটিতেই খুনিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। তিনি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতির হোতাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভার কার্যক্রম ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার। এছাড়া ইউপি সদস্য হাসান মেম্বার, সিরাজুল ইসলাম, সামসুল হক ও সোহাগ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন। উঠান বৈঠকের আগে হাসনাত আবদুল্লাহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় করেন।