রাজধানী ঢাকায় চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে নতুন বিপত্তি দেখা দিয়েছে। আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশের পাইপলাইন মেরামতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিরপুর রোডে তিতাস গ্যাসের একটি প্রধান 'ভালভ' (Valve) ফেটে লিকেজ তৈরি হয়েছে। এর ফলে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলীসহ রাজধানীর একটি বড় অংশে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ (Low Pressure) বিরাজ করছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক যান্ত্রিক বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ গ্রাহক।
গণভবনের সামনে যান্ত্রিক বিপর্যয়
শনিবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এই সংকটের কথা জানানো হয়। তিতাস জানায়, মিরপুর রোডে গণভবনের ঠিক সামনে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভালভ ফেটে গেছে। লিকেজ মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের (Distribution Network) বেশ কয়েকটি ভালভ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিপাকে বিস্তীর্ণ এলাকা: রান্নাবান্না স্থবির
ভালভ ফাটায় সৃষ্ট এই সংকটের কারণে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ এবং গাবতলীসহ এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতোটাই কম যে, রান্নাবান্না প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অফিসগামী মানুষ এবং গৃহিণীরা সকালের নাস্তা তৈরিতেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভটি পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা: কাটছে না সরবরাহ সংকট
গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা মহানগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় গ্যাসের চাপ নিয়ে হাহাকার চলছে। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারিগরি ও সরবরাহজনিত কারণ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিতাস জানিয়েছিল, আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেটি মেরামত করা হলেও পাইপের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় পুরো নেটওয়ার্কের চাপ কমে গেছে।
এছাড়া জাতীয় গ্রিড থেকেও রাজধানী অভিমুখে গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বলে জানা গেছে। একে তো সরবরাহ কম, তার ওপর একের পর এক যান্ত্রিক গোলযোগ—সব মিলিয়ে ঢাকার গ্যাস পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। 'সাপ্লাই চেইন' (Supply Chain)-এর এই দুর্বলতায় একদিকে যেমন আবাসিক গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ, অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
সমাধান কখন?
তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভালভ পরিবর্তনের কাজটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং সময়সাপেক্ষ। তবে আজ বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তুরাগ নদের পাইপে পানি ঢুকে যাওয়ার সমস্যার সমাধান হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শীতের মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা যেখানে কয়েক গুণ বেশি থাকে, সেখানে বারংবার এমন কারিগরি বিপর্যয় তিতাস গ্যাসের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।