আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদীন ফারুক। শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ করেন।
নির্বাচন বানচালের ‘হীন প্রচেষ্টা’ ও নিরাপত্তা সংকট
জয়নুল আবদীন ফারুক দাবি করেন, একটি চিহ্নিত মহল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে সামনে রেখে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য পর্দার আড়াল থেকে হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ষড়যন্ত্রের জাল তত বিস্তৃত হচ্ছে।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি ‘আইনশৃঙ্খলা’ (Law and Order) পরিস্থিতির আমূল উন্নতির দাবি জানান। ফারুক আরও বলেন, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। যদি সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্র উদ্ধার না করা হয় এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আমরা আশা করি, প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থেকে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করবে।”
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার
বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রবীণ এই নেতা বলেন, প্রতিকূল সময়েও বেগম জিয়া প্রমাণ করেছিলেন যে বিএনপি গণমানুষের দল। তার সেই অসমাপ্ত কাজ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধে। জয়নুল আবদীন ফারুকের মতে, “আল্লাহ তারেক রহমানকে সেই সুযোগ ও সৌভাগ্য দিয়েছেন যাতে তিনি বাংলাদেশের মানুষকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা উপহার দিতে পারেন।”
ভয়মুক্ত ভোট ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিব। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “লুকিয়ে থাকা অপশক্তিরা হত্যার রাজনীতি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখ করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে তারা সাধারণ মানুষের মনে ভয় ঢোকানোর চেষ্টা করছে। তবে মানুষ যদি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, তবে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।
ছাত্র রাজনীতির প্রভাব ও জাতীয় নির্বাচন
আলোচনায় উঠে আসে সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গও। জয়নুল আবদীন ফারুক মনে করেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে পড়বে। তরুণ প্রজন্মের এই ভোটাধিকার প্রয়োগের স্পৃহা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিন শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ দলে দলে যোগ দেন এবং জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও প্রস্তুতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।