• দেশজুড়ে
  • নীলফামারীতে এলপিজি গ্যাসের সংকট, রাতারাতি বাজার থেকে উধাও এলপিজি গ্যাস ।

নীলফামারীতে এলপিজি গ্যাসের সংকট, রাতারাতি বাজার থেকে উধাও এলপিজি গ্যাস ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নীলফামারীতে এলপিজি গ্যাসের সংকট, রাতারাতি বাজার থেকে উধাও এলপিজি গ্যাস ।

নীলফামারীতে হঠাৎ করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। দাম বাড়ার আগেই বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে গ্যাস।

নীলফামারী প্রতিনিধি

বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ১ হাজার ৩০৬ টাকা সরকার নির্ধারিত গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে। অল্প সংখ্যক সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে ইচ্ছেমতো বিক্রি করছে ডিলাররা। এতে রান্না ঘরের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তেরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা বিপাকে পড়েছে। জেলা শহরের বড় বাজার এলাকার চা ব্যবসায়ি রকি ইসলাম বলেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দাম দিতে রাজি থাকলেও প্রয়োজনমতো সরবরাহ মিলছে না। ফলে দোকানে অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বাড়তি দামে সেলিন্ডার কিনে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারে) বিকালে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে এমন খবর ছড়ানোর আগেই গোডাউন থেকে গ্যাস সরিয়ে ফেলে দাম বাড়িয়ে দেন বড় বড় ব্যবসায়িরা। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। অথচ দাম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সিলিন্ডার রহস্যজনকভাবে বাজার থেকে উধাও।

জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার গৃহিণী আফরোজা বেগম প্রিয়াংকা জানান, “আমি উত্তরা ইপিজেডের কোম্পানিতে চাকুরি করি সকাল বেলা কোম্পানিতে যেতে হয়। কিন্ত হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় রান্না নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছি। গত দুই দিন ধরে কোথাও সিলিন্ডার পাচ্ছি না। এখন বাধ্য হয়ে চুলায় রান্না করছি। দাম বাড়ার আগেই অসাধু ব্যবসায়িরা দাম বাড়িয়েছে, এখন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আরও বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি বলেন,“ডিলারদের টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কয়েকটি সিলিন্ডার দিলে তার দাম অনেক বেশি, আবার কোনো মেমোও দিচ্ছে না। বাধ্য হয়েই আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি।”

জেলা শহরের গ্যাস (পরিবেশক) ব্যবসায়ীরা জানান, বসুন্ধরা, যমুনা ও জেএমআই গ্যাসের সিলিন্ডার ডিপোতে পাওয়া যাচ্ছে না। ওমেরা গ্যাস পাওয়া গেলেও ডিলার চাহিদামতো সরবরাহ করছে না। একেক দোকানে ৪ থেকে ৬টির বেশী দিচ্ছে না। এতে ক্রয়ের কোনো মেমোও দিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ওমেরা এলপিজি গ্যাসের পরিবেশক মেসার্স বি.এস ট্রেডার্সের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে গ্যাসের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স বি.এস ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ভোলানাথ সরকার জানান, “আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিরাজগঞ্জ ও খুলনা থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজ খরচে নীলফামারীতে নিয়ে আসি। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি। বাহিরে কে কত বিক্রি করছে সেটা বলতে পারবো না।” মেমো না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভূল হতেই পারে এই অভিযোগ সত্য না।”

জেলা বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম খান জানান, দ্রæত অভিযান চালিয়ে মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও মেমোবিহীন বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, চলতি জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারিতে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৩ টাকা। অথচ বাস্তবে তার কয়েকগুণ বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। তৈয়ব আলী সরকার নীলফামারী।