জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন, তাঁর স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপি এবং মিলনের তিন বোনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) বগুড়ায় দুদকের জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম। এই আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তার তিন বোন হলেন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনম।
মামলার মূল অভিযোগ ও অর্থের পরিমাণ প্রথম মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন ও তাঁর তিন বোনের বিরুদ্ধে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ পন্থায় আরও ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় শাহাজাদী আলম লিপি ও তাঁর স্বামী হামিদুল আলম মিলনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ সম্পদের উৎস: হেবা দলিল দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক ডিআইজি মিলনের মা ও তিন বোনের আয়ের কোনো বৈধ উৎস নেই, তাঁরা সবাই গৃহিণী। অভিযোগ রয়েছে, মিলন তাঁর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে মা ও বোনদের নামে সম্পদ ক্রয় করেন। পরে হেবা (দান) দলিল মূলে সেই সম্পদগুলো আবার নিজের নামে স্থানান্তর করেন। একইভাবে, শাহাজাদী আলম লিপিও তাঁর গৃহিণী মায়ের কাছ থেকে হেবা দলিল মূলে সম্পদ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন, অথচ দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায় মিলনই অবৈধ অর্থ দিয়ে তাঁর শাশুড়ি সাফিয়া খাতুনের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ কিনেছিলেন এবং পরে তা মেয়ের নামে হস্তান্তর করা হয়। এক্ষেত্রে কেবল শাহাজাদী আলম লিপিকেই সম্পদ হেবা করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিবিড় অনুসন্ধান শেষে এই আর্থিক অসঙ্গতি ও যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও নির্বাচনী বিতর্ক উল্লেখ্য, শাহাজাদী আলম লিপি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। সেসময় তাঁর স্বামী অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে স্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর অভিযোগে মিলনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত থাকার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।