যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে ঢাকায় নিযুক্ত করা হচ্ছে। তার এই বিশেষ দায়িত্বের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা।
বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ এই কূটনীতিককে ঢাকায় ‘বিশেষ উপদেষ্টা’ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান জোরদার করার ওপর বিশেষ মনোযোগ দেবেন। এর আগে তিনি তাইওয়ানে আমেরিকান ইনস্টিটিউটের পরিচালক (কার্যত রাষ্ট্রদূত), প্রেসিডেন্ট বুশের উপ-সহকারী এবং দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নিয়োগ চীনের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার মার্কিন নীতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (IPS) বাস্তবায়ন ক্রিস্টেনসেনের কাজের প্রধান ক্ষেত্র হবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (IPS) বাস্তবায়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পশ্চিমা বিনিয়োগ ও স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও তিনি জোর দেবেন।
চীনের কৌশলগত উপস্থিতি বৃদ্ধি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকায় ক্রিস্টেনসেনের এই নিয়োগ চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত উপস্থিতির পাল্টা জবাব। সম্প্রতি চীন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে। মার্কিন এই কূটনীতিকের কাজ হবে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। তার প্রধান লক্ষ্য থাকবে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করা।