অভিযোগ ও মামলার বিবরণ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত অধ্যাপক মো. দুলাল আলী মোল্লা গত ২৭ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে তাকে আটকে রেখে অভিযুক্ত শিক্ষক বারবার ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পরদিন (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে জনৈক এক নারীকে 'বউ' সাজিয়ে এবং আরও তিনজন সহযোগীসহ তিনি পুনরায় বাসায় ফিরে আসেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে ভুক্তভোগীকে মারধর ও শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাসায় একা ফেলে এবং গ্যাস-পানি বন্ধ করে দিয়ে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী ও প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি থানায় মামলা করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে সমাধানের জন্য যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং তার মুরুব্বিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপক দুলাল আলী মোল্লার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বিভাগের সভাপতি ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি মুখে মুখে শুনলেও থানা বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক অসুস্থতার জন্য এক মাসের ছুটি নিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি বিভাগে আসেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী নারী মৌখিকভাবে জানালেও লিখিত কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চন্দ্রিমা থানার ওসি মো. এমরান হোসেন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক বর্তমানে পলাতক। পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।